সিঁদুরদানের ঠিক আগেই মোবাইলে এল রহস্যময় মেসেজ, মুহূর্তেই বিয়ের মণ্ডপ থেকে পালালেন বর!

সিঁদুরদানের ঠিক আগেই মোবাইলে এল রহস্যময় মেসেজ, মুহূর্তেই বিয়ের মণ্ডপ থেকে পালালেন বর!

বিয়ের সানাই বাজছিল, চারদিকে ছিল আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বেঙ্গাবাদ এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যা ঘটল, তা সিনেমাকেও হার মানায়। বিয়ের সমস্ত নিয়মকানুন ও আচার-অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে ছিল। বাকি ছিল কেবল প্রধান আনুষ্ঠানিকতা অর্থাৎ সিঁদুরদান। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই বরের মোবাইলে ভেসে আসে একটি মেসেজ, যা পড়ার সাথে সাথেই মণ্ডপ ছেড়ে চম্পট দেন তিনি।

একটি মেসেজ ও ভেঙে যাওয়া বিয়ে

জানা গেছে, মঙ্গলবার গিরিডির একটি হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ের আয়োজন চলছিল। বর যথাসময়ে বরযাত্রী নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এবং জয়মালা পর্বও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এরপর বিয়ের শুভ মুহূর্তে মণ্ডপে বসা অবস্থায় বরের ফোনে একটি অজ্ঞাত পরিচয় নম্বর থেকে মেসেজ আসে। সেখানে দাবি করা হয় যে, কনে ইতিপূর্বে অন্য এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সেই প্রেমিকের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য পাওয়ার পরই বর বিচলিত হয়ে পড়েন এবং কাউকে কিছু না জানিয়েই কৌশলে বিয়েবাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান।

পুলিশি তদন্ত ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

বরের হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কনেপক্ষ ও বরপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ডাকতে হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেই সরিয়া রেল ট্র্যাকের ধারে জনৈক এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল, যাকে কনের প্রাক্তন প্রেমিক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বর্তমানে পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে। বরের এই পলায়নের ফলে বিয়েটি ভেঙে গেছে এবং পুরো এলাকায় বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।

এক ঝলকে

  • ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে সিঁদুরদানের আগ মুহূর্তে রহস্যময় মেসেজ পেয়ে মণ্ডপ ছেড়ে পালান বর।
  • মেসেজে কনের পুরনো সম্পর্কের কথা এবং তাঁর প্রেমিকের খুনের দাবি করা হয়েছিল।
  • কিছু দিন আগে রেল লাইনের ধারে উদ্ধার হওয়া এক যুবকের লাশের সাথে এই ঘটনার যোগসূত্র পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *