কারেন্ট লাগলে ভুলেও করবেন না এই ভুল! আপনার সামান্য সচেতনতাই বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত যেকোনো সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মানুষের শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া, অচেতন হয়ে পড়া বা শরীরের কোনো অংশ পুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে সঠিক উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলে নিশ্চিত মৃত্যু থেকেও প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
উদ্ধারের সঠিক কৌশল
কাউকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখলে সরাসরি তাকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, অন্যথায় উদ্ধারকারী নিজেও আক্রান্ত হতে পারেন। প্রথমেই বিদ্যুতের মেইন সুইচ বা মূল সংযোগ বন্ধ করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কোনো শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা রাবারের মতো অপরিবাহী বস্তু দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে আলাদা করতে হবে। ভেজা স্থান বা ধাতব জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে এই কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও করণীয়
বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে কি না তা দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। সচেতন থাকলে তাকে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে যাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। ক্ষতস্থানে রক্তপাত হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরা এবং পুড়ে যাওয়া স্থানে সাধারণ তাপমাত্রার জল ব্যবহার করা যেতে পারে। অবস্থা গুরুতর হলে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকলে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে তৎক্ষণাৎ সিপিআর (CPR) নিশ্চিত করতে হবে।
পরবর্তী সতর্কতা
প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। বিদ্যুতের প্রবাহ অনেক সময় শরীরের ভেতরের অঙ্গে স্থায়ী ক্ষতি করে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা সম্ভব হয় না। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
এক ঝলকে
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরাসরি স্পর্শ না করে মেইন সুইচ বন্ধ করা বা শুকনো কাঠের সাহায্যে বিদ্যুৎমুক্ত করা।
- শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে একপাশে কাত করে শোয়ানো এবং প্রয়োজনে সিপিআর প্রদান করা।
- পুড়ে যাওয়া স্থানে সাধারণ জল ব্যবহার এবং রক্তপাত বন্ধে পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করা।
- অভ্যন্তরীণ কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।