১০০ ভাই আর ৫ পাণ্ডবের একমাত্র বোন! দ্রৌপদীর অপমানের শোধ নিতে কী করেছিলেন অর্জুন?

মহাভারতের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ১০০ কৌরব এবং ৫ পাণ্ডবের বীরত্বের কথা বহুল পরিচিত হলেও, তাঁদের একমাত্র বোন দুঃশলার জীবন ও তাঁর স্বামীর হঠকারিতা ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়। ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর একমাত্র কন্যা দুঃশলা ছিলেন পরিবারের সকলের চোখের মণি। কিন্তু তাঁর বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি। দুঃশলার স্বামী, সিন্ধুরাজ জয়দ্রথ বীর হওয়া সত্ত্বেও ছিলেন দ্বিমুখী চরিত্রের অধিকারী, যা শেষ পর্যন্ত কৌরব ও পাণ্ডব বংশের সম্পর্কে ফাটল ধরার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জয়দ্রথের হীন কর্মকাণ্ড ও পাণ্ডবদের ক্রোধ
বনবাসকালে পাণ্ডবদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জয়দ্রথ দ্রৌপদীর ওপর কুনজর দেন এবং তাঁকে অপহরণ করার দুঃসাহস দেখান। পাণ্ডবরা খবর পেয়ে জয়দ্রথকে বন্দি করেন। সেই সময় ক্ষুব্ধ পাণ্ডবরা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইলেও কেবল বোন দুঃশলার বৈধব্য ঠেকানোর জন্য দ্রৌপদী তাঁদের শান্ত করেন। প্রাণভিক্ষা পেলেও পাণ্ডবরা জয়দ্রথের মাথা মুড়িয়ে দিয়ে তাঁকে অপমানিত অবস্থায় ছেড়ে দেন। এই অপমানই পরবর্তীকালে পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে জয়দ্রথের প্রতিহিংসাকে আরও তীব্র করে তোলে।
অভিমন্যু হত্যা ও দুঃশলার বৈধব্য
অপমানের প্রতিশোধ নিতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের পক্ষে যোগ দেন জয়দ্রথ। যুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর পর্বে তিনি অর্জুন-পুত্র অভিমন্যুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই ঘটনায় শোকাতুর অর্জুন পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নিতে শপথ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণের কৌশলে শেষ পর্যন্ত জয়দ্রথকে বধ করেন। দুঃশলার স্বামী হওয়ার কারণে একবার প্রাণ বেঁচে গেলেও, অধর্মের পথে চলায় শেষ পর্যন্ত নিজের ভগ্নিপতির শিরচ্ছেদ করতে বাধ্য হন অর্জুন। এর ফলে পরিবারের আদরের বোন দুঃশলার জীবনে নেমে আসে চিরস্থায়ী বৈধব্যের অন্ধকার।
এক ঝলকে
পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নিতে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের সহায়তায় জয়দ্রথকে বধ করেন।
দুঃশলা ছিলেন ১০০ কৌরব ও ৫ পাণ্ডবের একমাত্র বোন এবং সিন্ধুরাজ জয়দ্রথের স্ত্রী।
দ্রৌপদীকে অপহরণের অপরাধে পাণ্ডবরা জয়দ্রথকে প্রাণে না মেরে মাথা মুড়িয়ে শাস্তি দিয়েছিলেন।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়দ্রথ অর্জুন-পুত্র অভিমন্যু হত্যার অন্যতম কারণ ছিলেন।