অন্ধবিশ্বাসের চরম সীমা! তপ্ত আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে সততীত্ব প্রমাণ নারীর

অন্ধবিশ্বাসের চরম সীমা! তপ্ত আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে সততীত্ব প্রমাণ নারীর

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় কুসংস্কার ও পারিবারিক কলহের এক চরম নজির সৃষ্টি হয়েছে। শাশুড়ির তোলা ‘জাদুটোনা’ ও স্বামীকে বশ করার অপবাদ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এক তরুণী গৃহবধূকে জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে খালি পায়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অমানবিক অপবাদ ও অগ্নিপরীক্ষা

জানা গেছে, ছিন্দওয়ারার সৌসর ব্লকের রামকোনা গ্রামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে তাঁর শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন অভিযোগ তোলেন যে, তিনি জাদুটোনা করে নিজের স্বামীকে বশ করে রেখেছেন। এই মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি পেতে ও শ্বশুরবাড়ির বিশ্বাস অর্জন করতে স্থানীয় এক দরগায় মোহররমের অনুষ্ঠানে অংশ নেন ওই নারী। সেখানে উপস্থিত এক ধর্মগুরুর প্ররোচনায় নিজের সতীত্ব ও সততা প্রমাণে তিনি দুবার জ্বলন্ত আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে যান। তবে পরবর্তীতে ওই নারী দাবি করেছেন, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

আইনি পদক্ষেপ ও মানবাধিকার কমিশনের তৎপরতা

এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অভিযুক্ত ওই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সব মহল থেকে। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও সক্রিয় হয়েছে এবং আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কুসংস্কারের শেকড় কতটা গভীরে, এই ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করল। নির্যাতিতার স্বামী জানিয়েছেন, পরিবারের ভুল ধারণা দূর করতেই এমনটি করা হয়েছে এবং এখন তাঁর মা (শাশুড়ি) পুত্রবধূর প্রতি আশ্বস্ত হয়েছেন। তবে সচেতন মহলের মতে, একজন নারীকে তাঁর সততা প্রমাণের জন্য এভাবে শারীরিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধমূলক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এক ঝলকে

  • শাশুড়ির জাদুটোনার অপবাদ ঘোচাতে মধ্যপ্রদেশের এক গৃহবধূর জ্বলন্ত কয়লায় হেঁটে অগ্নিপরীক্ষা।
  • নিজের সতীত্ব ও নির্দোষিতা প্রমাণে স্থানীয় এক দরগায় ধর্মগুরুর উপস্থিতিতে এই কাণ্ড ঘটান তিনি।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কড়া হস্তক্ষেপ।
  • পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *