তিন একর বাগান আর নিজের বাড়ি, তবুও রাস্তার ধারে জুতো সেলাই! কোটিপতি বৃদ্ধের জীবনকাহিনী হার মানাবে সিনেমাকেও

তিন একর বাগান আর নিজের বাড়ি, তবুও রাস্তার ধারে জুতো সেলাই! কোটিপতি বৃদ্ধের জীবনকাহিনী হার মানাবে সিনেমাকেও

কেরালার কোল্লামের রাস্তায় প্রতিদিন চেনা এক দৃশ্য—৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ পরম যত্নে মানুষের জুতো সেলাই করছেন। আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে সাধারণ এক মুচি মনে হলেও, তাঁর আসল পরিচয় জানলে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য। নাম পরাশক্তি; তিনি একাধারে বিএসসি গ্র্যাজুয়েট, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বিলাসিতার হাতছানি উপেক্ষা করে কেবল শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি আজও রাজপথে ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন।

সাফল্য ও শ্রমের মিশেলে এক অনন্য জীবন

পরাশক্তির জীবনকাহিনি রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়। ইডুক্কি জেলার বাসিন্দা এই ব্যক্তি দীর্ঘকাল বিদ্যুৎ বিভাগে (KSEB) চাকরি করেছেন। অবসরের পর প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নিজ জেলাতেই তিনি তিন একর এলাচ বাগান এবং একটি বাড়ি কেনেন। বর্তমানে কোল্লামেও তাঁর নিজস্ব জমি ও বাড়ি রয়েছে, যা থেকে নিয়মিত ভাড়া পান। এমনকি মেয়ে পেশায় একজন নার্স। তবুও ঘরে বসে অবসর জীবন কাটানোর পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন জুতো সেলাইয়ের মতো কঠিন শ্রমের কাজ।

কেন এই কঠোর পরিশ্রম?

শারীরিক সামর্থ্য থাকতে অলস বসে থাকাকেই অপরাধ মনে করেন পরাশক্তি। সরকারি পেনশন এবং ভূসম্পত্তির আয় থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি ফুটপাতে কাজ করেন। তাঁর মতে, সম্মান পোশাকে নয়, বরং সততার সাথে কাজ করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। নিজের রান্না নিজে করা এবং এক ছোট ঘরে সাদামাটা জীবনযাপন করার এই মানসিকতা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক বলিষ্ঠ উদাহরণ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি চিকিৎসক আশা উল্লাস এই বৃদ্ধের কর্মনিষ্ঠার গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন বিত্তবান হয়েও শ্রমের প্রতি এমন একাগ্রতা দেখে অভিভূত নেটিজেনরা। এই জীবন সংগ্রাম কেবল জীবিকার জন্য নয়, বরং কর্মক্ষম থাকার এক অনন্য যুদ্ধ। চিকিৎসক আশার মতে, প্রকৃত শিক্ষা বইয়ের পাতার চেয়েও পরাশক্তির মতো মানুষদের জীবন থেকেই বেশি পাওয়া সম্ভব।

এক ঝলকে

  • পরাশক্তি একজন বিএসসি গ্র্যাজুয়েট এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী।
  • তাঁর তিন একর এলাচ বাগান ও নিজস্ব বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তিনি রাস্তায় জুতো সেলাই করেন।
  • নিজের উপার্জিত সম্পদে স্বাবলম্বী হয়েও তিনি অন্য কারও ওপর বোঝা হতে নারাজ।
  • শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা রাস্তায় কাজ করে অনন্য নজির গড়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *