বিয়ের আগের এক ভুলেই কি মা হওয়া আসাম্ভব? তিন বছরের লড়াই শেষে সামনে এল আসল সত্য

মাতৃত্বের স্বাদ পেতে গত তিন বছর ধরে ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন বছর আটাশের এক তরুণী। কিন্তু প্রতিবারই ফল আসছিল নেতিবাচক। শারীরিক সব রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেন গর্ভধারণ হচ্ছে না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল চরম উদ্বেগ ও অবসাদ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এক ফর্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে ধরা পড়ল সেই অজানা কারণ, যা সাধারণ সব পরীক্ষার আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল।
পুরানো ভুল বনাম বিরল রোগ
তরুণীটি মনে করেছিলেন বিয়ের আগে নেওয়া গর্ভপাতের ওষুধই হয়তো তাঁর বর্তমান সমস্যার মূল কারণ। এই অপরাধবোধ থেকে তিনি নিজেকে সামাজিক অনুষ্ঠান থেকেও গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তবে ফর্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডাঃ মহিমা যখন গভীরভাবে পরীক্ষা করেন, তখন বেরিয়ে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক তথ্য। ওই নারী আসলে ‘শোগ্রেনস সিনড্রোম’ (Sjögren’s Syndrome) নামক একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে তাঁর চোখ, মুখ এমনকি প্রজনন অঙ্গেও অস্বাভাবিক শুষ্কতা তৈরি হয়েছিল, যা স্বাভাবিক গর্ভধারণের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অজানা বন্ধ্যাত্বের প্রভাব ও চিকিৎসা
চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দম্পতি ‘আনএক্সপ্লেইন্ড ইনফার্টিলিটি’ বা অজানিত বন্ধ্যাত্বের শিকার হন, যেখানে সব রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও সন্তান লাভে সমস্যা হয়। শোগ্রেনস সিনড্রোমের মতো কন্ডিশন অনেক সময় সাধারণ আল্ট্রাসাউন্ড বা রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত থাকায় এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় তরুণীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে চিকিৎসকদের আশ্বাস, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করলে এই সমস্যা কাটিয়েও সুস্থভাবে মা হওয়া সম্ভব।
এক ঝলকে
- তিন বছর ধরে গর্ভধারণে ব্যর্থ এক তরুণীর শরীরে শেষ পর্যন্ত ‘শোগ্রেনস সিনড্রোম’ নামক অটোইমিউন রোগ শনাক্ত হয়েছে।
- ওই নারী নিজের অতীতের একটি ভুলকে দায়ী মনে করলেও আসলে শারীরিক শুষ্কতাই ছিল তাঁর বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ।
- বিশেষজ্ঞের মতে, অনেক সময় সব মেডিকেল রিপোর্ট ঠিক থাকার পরেও এই ধরণের লুকানো অসুখ সন্তান ধারণে বাধা দেয়।
- সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই বিশেষ শারীরিক অবস্থাতেও মা হওয়া এখন বিজ্ঞানের দৌলতে সম্ভব।