৬ মাস আগে কামড়েছিল বাঁদর, গুরুত্ব না দেওয়ার মাশুল! এখন মানুষের শরীরে দেখা দিচ্ছে পশুর আচরণ

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের দিনাগড়িতে এক যুবকের বিরল ও ভীতিকর অসুস্থতা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রায় ছয় মাস আগে একটি বাঁদর কামড়ালেও বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো প্রতিষেধক নেননি ২৮ বছর বয়সী ওই যুবক। দীর্ঘ সময় পর হঠাৎ করেই তার শরীরে জলাতঙ্ক বা রেবিসের মারাত্মক লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে তিনি স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণ করতে পারছেন না।
বাঁদরের মতো আচরণ ও শারীরিক লক্ষণ
হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা যুবকের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে হতবাক হয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আক্রান্ত যুবক গ্লাসে করে চা বা জল পান করতে পারছেন না; পরিবর্তে বাঁদরের অনুকরণে হাতের তালুতে ঢেলে জল পান করছেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে অবিরত চুলকানো এবং অদ্ভুত সব আওয়াজ করার মতো উপসর্গ তার মধ্যে প্রকট হয়ে উঠেছে। মূলত সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও টিকা না নেওয়ার কারণেই সংক্রমণটি মস্তিষ্কে ছড়িয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সচেতনতার অভাব ও জরুরি পদক্ষেপ
যুবকের স্ত্রী জানিয়েছেন, কামড়ানোর সময় বিষয়টি সাধারণ মনে হওয়ায় তারা কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নেননি। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জিটিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ওই যুবকের সংস্পর্শে থাকা বাবা, ভাই, স্ত্রী ও এক বছরের শিশুকেও জরুরি ভিত্তিতে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, বন্য পশু বা কুকুর-বেড়াল কামড়ানোর পর দ্রুত টিকা না নেওয়া মৃত্যুর ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ছয় মাস আগে বাঁদরের কামড় খাওয়া যুবকের শরীরে জলাতঙ্ক শনাক্ত।
- প্রতিষেধক না নেওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি বর্তমানে অদ্ভুত আওয়াজ ও বাঁদরের মতো আচরণ করছেন।
- আক্রান্তের সংস্পর্শে থাকা পরিবারের চার সদস্যকেও সতর্কতামূলক টিকা দেওয়া হয়েছে।
- চিকিৎসকদের মতে, পশুপাখি কামড়ানোর সাথে সাথে ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে এমন মরণব্যাধি অনিবার্য।