যুদ্ধ-আতঙ্কে থমকে গেছে দুবাই! ইতিহাসে প্রথমবার বন্ধ হলো বিলাসবহুল ‘বুর্জ আল আরব’

যুদ্ধ-আতঙ্কে থমকে গেছে দুবাই! ইতিহাসে প্রথমবার বন্ধ হলো বিলাসবহুল ‘বুর্জ আল আরব’

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন শিল্পে। পর্যটকদের সংখ্যা রেকর্ড হারে হ্রাস পাওয়ায় দুবাইয়ের বিলাসবহুল ফাইভ স্টার হোটেলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৯ সালে উদ্বোধনের পর এই প্রথম সংস্কার কাজের অজুহাতে টানা ১৮ মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আইকনিক হোটেল ‘বুর্জ আল আরব’। ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দুবাই ভ্রমণে পর্যটকদের আগ্রহ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় শহরটির রাস্তাঘাট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন মরুভূমির মতোই খাঁ খাঁ করছে।

আর্থিক সংকট ও সংস্কারের হিড়িক

পর্যটন খাতের এই স্থবিরতাকে কাজে লাগিয়ে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। বুর্জ খলিফার ‘আরমানি হোটেল’ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুনরায় খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সেন্ট রেজিস দ্য পাম এবং পার্ক হায়াত দুবাইয়ের মতো প্রায় সাতটি প্রিমিয়াম হোটেল তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পর্যটন খাত সংযুক্ত আরব আমিরাতের জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ জোগান দেয়, ফলে এই পরিস্থিতি দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সংকটের প্রভাব কাটাতে দুবাই সরকার ইতোমধ্যে ২৭২ মিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল ঘোষণা করেছে।

বিপাকে বিমান চলাচল ও ভারতীয় হোটেল চেইন

আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ফ্লাইটের সময়সূচী বিপর্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংকটময় সময়ে দুবাইয়ে ব্যবসারত ভারতীয় হোটেল চেইন যেমন টাটা গ্রুপের তাজ হোটেলস ও লেমন ট্রি তাদের পরিচালনা ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে, যদিও কর্মীদের বেতন কাটার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সাল নাগাদ দুবাইয়ের পর্যটন ব্যবসা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। তবে দেশটির শক্তিশালী অবকাঠামো দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • যুদ্ধের উত্তেজনায় দুবাইয়ে পর্যটকদের সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
  • ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ করা হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব।
  • সংকট মোকাবিলায় পর্যটন খাতের জন্য ২৭২ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য দিয়েছে দুবাই সরকার।
  • আরমানি হোটেলসহ সাতটি বড় বিলাসবহুল হোটেল তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *