রক্তের সম্পর্কেই যখন লালসার থাবা, মা ও মেয়ের চরম লাঞ্ছনার কাহিনীতে কাঁপছে শহর

বিহারের রাজধানী পাটনায় মানবিকতা ও পারিবারিক সম্পর্কের চরম অবক্ষয় প্রকাশ্যে এসেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অসহায় এক বিধবা নারী যখন আশ্রয়ের খোঁজে শ্বশুরবাড়ির শরণাপন্ন হয়েছিলেন, তখন নিজের দেবরই হয়ে ওঠে তাঁর যন্ত্রণার কারণ। ২০২৩ সালে স্বামীর প্রয়াণের পর থেকেই ওই তরুণীর ওপর ক্রমাগত যৌন হেনস্তা চালায় তাঁর দেবর। অভিযোগ উঠেছে, পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে ‘ঠাট্টা-তামাশা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, যা অপরাধীকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।
বিচারহীনতা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা
নির্যাতিতা নারী গত ১ আগস্ট স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের এই নীরবতা এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের সাহস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে দেবর যেমন ক্রমাগত অত্যাচার চালিয়ে গেছে, অন্যদিকে ওই বাড়ির এক ভাড়াটেই সুযোগ বুঝে সাত বছরের এক শিশু কন্যার শ্লীলতাহানি করেছে বলে অভিযোগ। মা হাসপাতালে থাকার সুযোগে ওই শিশুটির গোপন অঙ্গের ছবি তুলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বিপন্ন শৈশব ও আইনি লড়াই
নিজের সম্মান বাঁচাতে দিনের পর দিন মুখ বুজে সহ্য করলেও, শিশুকন্যার ওপর পাশবিকতার ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন অসহায় মা। বর্তমানে বিহার মহিলা কমিশন এই স্পর্শকাতর মামলাটিতে হস্তক্ষেপ করেছে। কমিশনের সদস্য রশ্মি রেখা সিনহা জানিয়েছেন, জেলা শাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ২০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে মেয়ের সামাজিক বদনামের ভয়ে এবং প্রভাবশালী মহলের চাপে মা এখনও নতুন করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করছেন, যা বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
একই ছাদের নিচে দেবর ও ভাড়াটেই যখন শিকারি হয়ে ওঠে, তখন সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পারিবারিক আড়াল অনেক সময় অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন সামাজিক ব্যাধি নিরাময় হওয়া কঠিন।
এক ঝলকে
- পাটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর নিজ দেবরের লালসার শিকার ৩৬ বছর বয়সী এক বিধবা নারী।
- মায়ের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে সাত বছরের শিশুকন্যার শ্লীলতাহানি ও গোপন ছবি ধারণ করেছে এক ভাড়াটে।
- থানায় অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধীদের সাহস বাড়ার অভিযোগ উঠেছে।
- মহিলা কমিশন হস্তক্ষেপ করলেও আগামী ২০ অক্টোবর শুনানির আগে বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবারটি।