১৭ বছরের কিশোরী আসলে কিশোর, বিরল শারীরিক গঠন দেখে অবাক চিকিৎসকরা

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে এক বিস্ময়কর চিকিৎসা সংক্রান্ত ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা আধুনিক বিজ্ঞানকেও নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। জন্ম থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়ে হিসেবে বেড়ে ওঠা এক কিশোরী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জৈবিকভাবে পুরুষ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ঋতুস্রাব না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বারাণসীর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। চিকিৎসকরা দেখতে পান, ওই কিশোরীর শরীরে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই, বরং পেটের ভেতরে পুরুষ জননেন্দ্রিয় বা অণ্ডকোষ সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে।
অ্যান্ড্রোজেন ইনসেনসিটিভিটি সিনড্রোম
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘অ্যান্ড্রোজেন ইনসেনসিটিভিটি সিনড্রোম’ (AIS)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি একটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক সমস্যা যেখানে ভ্রূণাবস্থায় শরীর পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের প্রতি সাড়া দেয় না। ফলে জেনেটিক গঠন পুরুষালি (46XY ক্রোমোজোম) হওয়া সত্ত্বেও শরীরের বাইরের গঠন অবিকল মেয়েদের মতো হয়। এই শারীরিক অসংগতির কারণেই ১৭ বছর ধরে ওই কিশোরী এবং তার পরিবার বিষয়টি টের পাননি।
অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের পক্ষ থেকে কিশোরীর মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কাউন্সিলিং করানো হয়। যদিও সে শারীরিকভাবে পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে সে নিজেকে মেয়ে হিসেবেই মনে করে এবং ভবিষ্যতে নারী হিসেবেই জীবন কাটাতে চায়। সেই অনুযায়ী, চিকিৎসকরা ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে সুপ্ত অণ্ডকোষ দুটি অপসারণ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে সেখানে ক্যানসার না হয়। এখন তাকে জীবনভর হরমোন থেরাপি নিতে হবে। তবে জরায়ু না থাকায় তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না।
এই ঘটনার ফলে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জটিলতা এবং লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রে জেনেটিক গঠনের গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো। চিকিৎসকদের মতে, লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও যথাযথ কাউন্সিলের মাধ্যমে এই ধরনের রোগীরা পরবর্তী জীবনে মানসিকভাবে সুস্থ থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হন।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের ১৭ বছরের এক কিশোরী জৈবিকভাবে পুরুষ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
- ‘অ্যান্ড্রোজেন ইনসেনসিটিভিটি সিনড্রোম’ নামক বিরল জেনেটিক সমস্যার কারণে তার শরীরে জরায়ু নেই।
- চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেটের ভেতর থেকে সুপ্ত অণ্ডকোষ অপসারণ করেছেন।
- ওই কিশোরী আজীবন হরমোন থেরাপির মাধ্যমে নারী হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করবেন।