ইরানি হামলা রুখে মুম্বই উপকূলে দেশ গরিমা, স্বস্তিতে ভারতের তেল আমদানিকারকরা

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। বুধবার সকালে ইরানি রেভলিউশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) গোলাগুলি এবং আক্রমণ এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়ে মুম্বই উপকূলে নোঙর করেছে ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’। গত ১৮ এপ্রিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী গুলি চালালে বিশ্ববাজারে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত বাধা কাটিয়ে ট্যাঙ্কারটির ৩১ জন ক্রু-সদস্যই নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।
সংকট ও সাফল্যের পরিসংখ্যান
মার্চ মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ১০টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক এই জলপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। গত সপ্তাহেও ‘সানমার হেরাল্ড’ এবং ‘জাগ অর্ণব’ নামক দুটি ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, যার ফলে জাহাজ দুটি মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সেই তুলনায় ‘দেশ গরিমা’র এই সফল প্রত্যাবর্তন ভারতীয় নৌ-বাণিজ্যিক মহলের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তুঙ্গে, তখন এই সরবরাহ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কূটনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব
হরমুজ প্রণালীতে বারবার হামলার ঘটনায় ভারত ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও ইরানের মধ্যে মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকলেও, সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। দিল্লি আশা করছে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। বর্তমানে মুম্বই বন্দর থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করা জাহাজটি থেকে দ্রুত তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।
এক ঝলকে
- ইরানি বাহিনীর হামলা এড়িয়ে ভারতের বিশাল তেল ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’ নিরাপদে মুম্বই উপকূলে পৌঁছেছে।
- জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন ক্রু-মেম্বারের সবাই সুস্থ আছেন এবং তেলের জোগানও সুরক্ষিত রয়েছে।
- মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০টি ভারতীয় জাহাজ সফলভাবে বিপজ্জনক হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে।
- এই ঘটনা বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।