ট্রাম্পের শুল্ক ফেরত দিচ্ছে আমেরিকা: ভারতের পকেটে কি ঢুকবে ১২০০ কোটি ডলার?

ট্রাম্পের শুল্ক ফেরত দিচ্ছে আমেরিকা: ভারতের পকেটে কি ঢুকবে ১২০০ কোটি ডলার?

আমেরিকা সম্প্রতি ২০ এপ্রিল থেকে সংগৃহীত পাল্টা শুল্ক বা ‘কাউন্টার ট্যারিফ’ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা জিটিআরআই-এর তথ্যমতে, মার্কিন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কাঠামোকে অবৈধ ঘোষণা করায় এই রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর সরাসরি সুবিধা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছাবে না।

আইনি জটিলতা ও মালিকানা

মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, এই শুল্ক ফেরতের অর্থ সরাসরি পাবেন কেবল সে দেশের আমদানিকারকরা। ভারতীয় রফতানিকারকদের এই অর্থের ওপর কোনো আইনি অধিকার নেই। ফলে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভারতীয় পণ্যের বিপরীতে যে পরিমাণ শুল্ক ফেরত দেওয়া হবে, তা আদায়ের জন্য মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত খাত ও প্রভাব

২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ভারতের রফতানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং রাসায়নিক খাতের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। মোট রিফান্ডের ১২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে তৈরি পোশাক ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের অংশ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার করে, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যৎ করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানিকারকদের উচিত অবিলম্বে মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং আগের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রিফান্ডের টাকা ভাগ করে নেওয়ার দাবি জানানো। যেহেতু অনলাইন প্রক্রিয়ায় তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মার্কিন আমদানিকারকরাই টাকা তুলবেন, তাই পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই কেবল ভারতীয় রফতানিকারকরা তাদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারেন।

এক ঝলকে

  • ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে রিফান্ড দিচ্ছে আমেরিকা।
  • মোট ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ভারতের পাওনা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।
  • শুল্কের টাকা সরাসরি মার্কিন আমদানিকারকদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
  • অর্থ আদায়ে রফতানিকারকদের মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার পরামর্শ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *