ভোটের মুখে বাইক চলাচলে কড়াকড়ি! ওলা-উবার ও সুইগি-জোম্যাটো কি চলবে? স্পষ্ট জানাল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই মোটরবাইক চলাচলের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশিকা জারির পর ওলা, উবার বা সুইগি-জোম্যাটোর মতো পরিষেবা প্রদানকারী গিগ ওয়ার্কারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং ডেলিভারি কর্মীদের জীবিকার কথা মাথায় রেখে কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারীরা ছাড় পাবেন।
পরিচয়পত্র থাকলেই মিলবে ছাড়
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওলা বা উবারের মতো অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক ট্যাক্সি এবং সুইগি, জোম্যাটো কিংবা ব্লিঙ্কইটের ডেলিভারি বয়রা স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। যাত্রী পরিবহন কিংবা খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো বাধা থাকবে না। তবে শর্ত হিসেবে প্রত্যেক কর্মীকে সংস্থার দেওয়া বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে, যাতে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকরা প্রয়োজনে তা যাচাই করতে পারেন।
নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ ও প্রভাব
মূলত ভোটের আগে বাইক র্যালি বা কোনো প্রকার জমায়েত রুখতেই এই কড়াকড়ি। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণ বাইক চলাচল বন্ধ থাকবে এবং দিনের বেলাতেও বাইকের পিছনে আরোহী বসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা, স্কুল বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই নিয়মে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। গিগ ওয়ার্কারদের এই ছাড় দেওয়ার ফলে শহরের সাপ্লাই চেইন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সচল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ওলা, উবার এবং সুইগি-জোম্যাটোর মতো পরিষেবাগুলি নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
- বাইক ট্যাক্সি চালক ও ডেলিভারি বয়দের বাধ্যতামূলকভাবে বৈধ পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে।
- জরুরি চিকিৎসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষও বাইক চলাচলে ছাড় পাবেন।
- ভোটের সময় বাইক নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মিছিল বা র্যালি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।