এক বছরে বড় হামলাহীন কাশ্মীর, নেপথ্যে সেনার স্নো লেপার্ড ও মারখোর ইউনিটের দাপট

ঠিক এক বছর আগে পহেলগামের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও অমলিন, তবে গত ৩৬৫ দিনে কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক বছর আগে পরিস্থিতি যেমনই থাকুক না কেন, বর্তমানে তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এক সময় জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। বর্তমানে ভারতীয় বাহিনী জঙ্গিদের গোপন আস্তানা খুঁজে বের করে একের পর এক নিকেশ করছে, যার ফলে গত এক বছরে উপত্যকায় কোনো বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি।
জঙ্গিদের যম স্নো লেপার্ড ও মারখোর
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ‘স্নো লেপার্ড’ এবং ‘মারখোর’ নামে দুটি বিশেষ কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করেছে। এই দুই বাহিনী বর্তমানে জঙ্গিদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্নো লেপার্ড ইউনিটের মূল লক্ষ্য হলো পাহাড়ের দুর্গম শিখরে লুকিয়ে থাকা জঙ্গি ডেরাগুলো খুঁজে বের করা। অন্যদিকে, গভীর জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে আত্মগোপনকারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার গুরুদায়িত্ব পালন করছে মারখোর ইউনিট। এই দুই দুর্ধর্ষ বাহিনীর ২৪ ঘণ্টা সতর্ক নজরদারিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলো।
নিরাপত্তার লৌহবর্ম ও এনআইএ-র তৎপরতা
পহেলগামসহ উপত্যকার প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে বর্তমানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রধান রাস্তাগুলোতে বসানো হয়েছে একাধিক সিকিউরিটি চেক পয়েন্ট এবং সংলগ্ন গ্রামগুলোতে চলছে নিয়মিত তল্লাশি। পাশাপাশি পহেলগাম হামলার তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদন্তের স্বার্থে এ পর্যন্ত ১,১১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- গত এক বছরে কাশ্মীরে কোনো বড় ধরনের জঙ্গি হামলা ঘটেনি।
- জঙ্গিদের দমনে ‘স্নো লেপার্ড’ ও ‘মারখোর’ নামে দুটি বিশেষ কাউন্টার টেররিজম ইউনিট কাজ করছে।
- পহেলগাম হামলার তদন্তে এনআইএ ১,১১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
- পর্যটন কেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তল্লাশি চলছে।