শুধু উইল যথেষ্ট নয়! সম্পত্তির বিবাদ মেটাতে ‘সেটেলমেন্ট ডিড’ অত্যন্ত জরুরি

শুধু উইল যথেষ্ট নয়! সম্পত্তির বিবাদ মেটাতে ‘সেটেলমেন্ট ডিড’ অত্যন্ত জরুরি

পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে কলহ বর্তমান সময়ে এক জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন কেবল একটি ওসিয়ত বা উইল (Will) লিখে গেলেই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিবাদ মিটে যাবে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। তাদের মতে, ওসিয়ত অনেক সময় আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এবং পারিবারিক তিক্ততার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে ‘সেটেলমেন্ট ডিড’ বা ফয়সালা নামা হতে পারে স্থায়ী আইনি সমাধান।

ওসিয়ত ও সেটেলমেন্ট ডিডের মৌলিক পার্থক্য

ওসিয়ত কার্যকর হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর পর এবং এটি যেকোনো সময় পরিবর্তন করা যায়। এই নমনীয়তার কারণেই পরবর্তী সময়ে ওসিয়ত নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থেকে যায়। অন্যদিকে, সেটেলমেন্ট ডিড একটি নিবন্ধিত বা রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, যা দাতার জীবিত অবস্থাতেই কার্যকর করা হয়। স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করে এই দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর করা যায়, যা ভবিষ্যতে কোনো আইনি অস্পষ্টতা বা ঝগড়ার সুযোগ রাখে না।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব

অনেক অভিভাবক সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনে দ্বিধা বোধ করেন এই ভয়ে যে, বৃদ্ধ বয়সে তারা অবহেলার শিকার হতে পারেন। সেটেলমেন্ট ডিডের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই দলিলে এমন শর্ত যুক্ত করা যায় যে, দাতা আজীবন ওই সম্পত্তিতে বসবাস করবেন এবং সন্তানরা তার যাবতীয় ভরণপোষণ বহন করবে। এই আইনি প্রক্রিয়া একদিকে যেমন সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে, অন্যদিকে প্রবীণদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। যৌথ পরিবারের সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি শান্তি বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী।

এক ঝলকে

ওসিয়ত কেবল মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং এটি আইনিভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য।

সেটেলমেন্ট ডিড জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আইনি পথ।

এই দলিলে দাতার আজীবন আবাসন ও ভরণপোষণের সুরক্ষা শর্ত যুক্ত করার সুযোগ থাকে।

দীর্ঘমেয়াদী পারিবারিক বিবাদ এড়াতে ওসিয়তের চেয়ে সেটেলমেন্ট ডিড বেশি কার্যকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *