“আমাকে বলল, পারমিশন নেই!” মমতার প্রচারে বাধাদান ও চ্যালেঞ্জের মুখে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে এবার সরাসরি বিরোধীদের একহাত নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকায় সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে কলকাতার কলিন্স লেন এলাকায় একটি ছোট সভার জন্য আবেদন জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেতিবাচক উত্তর এসেছে বলে জানান তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বাধা পেরিয়ে জনসংযোগের কৌশল
সভায় অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজস্ব মেজাজে জনসংযোগ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সভার অনুমতি না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে কোনো বাধা নেই। নিজের কৌশলী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সভায় না গিয়েও তিনি ওই এলাকায় গিয়ে চা খেয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সভার বিকল্প হিসেবে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এই কৌশল প্রচারের ময়দানে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
রাজনৈতিক ফলাফল ও হুঁশিয়ারি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং বিরোধীদের কৌশলী মোকাবিলা করা। সভার অনুমতি না দেওয়াকে তিনি রাজনৈতিক অভিসন্ধি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর ভাষণে ‘আম যাবে, ছালাও যাবে’ প্রবাদটি ব্যবহার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এভাবে প্রচার আটকে তৃণমূলের অগ্রযাত্রা রোধ করা সম্ভব নয়। বরং এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং জনসমর্থন হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বিরোধীদের।
ভোটের ময়দানে প্রভাব
ভোটের আবহে এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূল কর্মীদের যেমন উজ্জীবিত করছে, তেমনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। কলিন্স লেনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই প্রচার বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- আমডাঙার সভা থেকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রচারের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কলিন্স লেনে সভা করতে না পারলেও এলাকায় গিয়ে সরাসরি জনসংযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।
- বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাধা দিয়ে তৃণমূলের জয়যাত্রা থামানো যাবে না।
- ভোটের মুখে এই বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।