১২ দিন পর বাংলায় গেরুয়া শিবিরকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না! বিজেপিকে কড়া বার্তা অভিষেকের

নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে জয়নগরের জনসভা থেকে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর ও মন্দিরবাজারের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সভায় তিনি দাবি করেন, আগামী ৪ জুনের পর রাজ্য থেকে বিজেপি কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লক্ষ্যমাত্রাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, বিজেপি এবার গতবারের প্রাপ্ত আসনের গণ্ডিও পেরোতে পারবে না।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ
সাধারণ মানুষের আর্থিক দুর্দশা এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে হাতিয়ার করে অভিষেক এদিন দিল্লির সরকারকে একহাত নেন। তাঁর অভিযোগ, মোদী সরকার সাধারণ মানুষকে লুটে বাংলার গরিবের টাকা অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও কেন্দ্র উদাসীন বলে তিনি দাবি করেন। বিজেপি মানুষের চোখে জল আনতে চাইলেও তৃণমূল সরকার সবসময় জনগণের পাশে থেকে মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও আবেগ
নিজের কর্মভূমি দক্ষিণ ২৪ পরগনার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে অভিষেক জানান, জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রকেই তিনি আগলে রাখবেন। জয়নগরের মোয়ার জিআই ট্যাগ প্রাপ্তি থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন—সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে ২৯ তারিখ তীব্র গরম উপেক্ষা করে বুথমুখী হয়ে তৃণমূলকেই ভোট দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে অভিষেকের এমন আক্রমণাত্মক মেজাজ নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনেও বিশেষ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা এবং স্থানীয় উন্নয়নের তুলনা টেনে তিনি সুকৌশলে জনমত নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করেছেন।
এক ঝলকে
- জয়নগরের সভা থেকে বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে পর্যুদস্ত করার ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- মোদী সরকার মানুষের টাকা লুটে খাচ্ছে এবং বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
- তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ ও গরিবদের পাকা ছাদের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- জয়নগরের মোয়ার জিআই ট্যাগ এবং স্থানীয় উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চাইলেন সাংসদ।