শুক্রাচার্যের অভিশাপে অকালেই হারাল যৌবন এবং যযাতির এক জেদেই বদলে গেল রাজবংশের ইতিহাস

পৌরাণিক যুগে ঋষিদের ক্রোধ ও অভিশাপ রাজবংশকেও ধ্বংস করতে পারত, যার অন্যতম উদাহরণ রাজা যযাতি। শুক্রাচার্য নিজের কন্যা দেবযানীর সাথে রাজা যযাতির বিয়ে দিলেও একটি কঠোর শর্ত দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল, যযাতি অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। কিন্তু রূপবতী দাসের কন্যা শর্মিষ্ঠার প্রেমে মগ্ন হয়ে যযাতি গোপনে তাঁকে বিবাহ করেন এবং এই বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
গুরু যখন ক্রুদ্ধ বিচারক
দেবযানি নিজের স্বামীর এই গোপন প্রণয়ের কথা জানতে পেরে পিতা শুক্রাচার্যের দ্বারস্থ হন। নিজ কন্যার অপমানে ক্ষুব্ধ শুক্রাচার্য ধৈর্য হারিয়ে জামাতা যযাতিকে অকাল বার্ধক্যের অভিশাপ দেন। নিমিষেই এক শক্তিশালী তরুণ রাজা জরাগ্রস্ত বৃদ্ধে পরিণত হন। পরে অনুতপ্ত যযাতির প্রার্থনায় শুক্রাচার্য অভিশাপ কিছুটা শিথিল করে বলেন, যদি কোনো পুত্র যযাতিকে নিজের যৌবন দান করতে সম্মত হয়, তবেই রাজা পুনরায় তার হারানো শক্তি ও যৌবন ফিরে পাবেন।
সিংহাসন ও উত্তরাধিকারের পরিবর্তন
যযাতি যখন তাঁর পাঁচ পুত্রের কাছে যৌবন ভিক্ষা করেন, তখন জ্যেষ্ঠ চার পুত্রই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু কনিষ্ঠ পুত্র পুরু পিতার দুঃখে কাতর হয়ে নিজের যৌবন হাসিমুখে দান করেন। এই ঘটনার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। অবাধ্য হওয়ার অপরাধে বড় চার পুত্রকে রাজ্য থেকে বঞ্চিত করেন যযাতি এবং অভিশাপ দেন যে তাদের বংশজরা কখনো সাম্রাজ্যের মূল অধিপতি হতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলেই কনিষ্ঠ পুত্র পুরু রাজা হন এবং তাঁর নামেই বিখ্যাত ‘পুরু বংশ’ বা ‘কুরু বংশের’ সূত্রপাত ঘটে। অন্যদিকে, বাকি ভাইদের বংশ পরবর্তীকালে যদুবংশ নামে পরিচিতি পায়।
এক ঝলকে
- শুক্রাচার্য তাঁর জামাতা যযাতিকে বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে অকাল বার্ধক্যের অভিশাপ দিয়েছিলেন।
- কনিষ্ঠ পুত্র পুরু নিজের যৌবন পিতাকে দান করে তাঁকে জরা থেকে মুক্তি দেন।
- জেষ্ঠ চার পুত্রকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করায় ভারতীয় রাজবংশের ইতিহাসে বিশাল রদবদল ঘটে।
- পুরুর আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ঐতিহাসিক পুরু বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।