‘সরকারি চ্যানেল কি বিজেপির প্রচারের মাধ্যম?’ দূরদর্শনে মোদীর ভাষণ নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ কংগ্রেস সাংসদ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক এক ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ১৮ এপ্রিল দূরদর্শন ও সংসদ টিভিতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ টিএন প্রথাপন। পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রচার মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করেছেন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সরকারি মাধ্যমের অপব্যবহারের অভিযোগ
কেরালার কংগ্রেস সাংসদ প্রথাপন তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, ‘নারী শক্তি বন্দন’ বিল সংক্রান্ত আলোচনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন। সেখানে তিনি সরাসরি কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির নাম নিয়ে সমালোচনা করেন এবং ভোটারদের তাদের জবাবদিহি করতে বলেন। পিটিশনে বলা হয়েছে, সক্রিয় নির্বাচন চলাকালীন সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন টেলিভিশন চ্যানেল ব্যবহার করে বিরোধীদের আক্রমণ করা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপের দাবি
ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে বিরোধীরা নারী শক্তি বন্দন প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। কংগ্রেসের দাবি, ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারি মাধ্যমের ভূমিকা স্পষ্ট করতে পারে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১৮ এপ্রিলের ভাষণের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস সাংসদ টিএন প্রথাপনের মামলা।
- দূরদর্শন ও সংসদ টিভির মতো সরকারি প্রচার মাধ্যম অপব্যবহার করে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ।
- ভাষণে কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে সহ একাধিক বিরোধী দলের নাম নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়।
- আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে কংগ্রেস।