নির্বাচনী বিধিনিষেধে বন্ধ মদের দোকান, বিকল্প হিসেবে ‘তাড়ি’র নেশায় বুঁদ সুরাপ্রেমীরা!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে জারি হয়েছে কড়া বিধি-নিষেধ। নিরাপত্তার স্বার্থে ভোট চলাকালীন নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে ‘ড্রাই ডে’ বা মদ বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে মদের দোকান বন্ধ থাকায় পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের মতো এলাকাগুলোতে সুরাপ্রেমীরা এক অভিনব বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন। মদের পরিবর্তে তারা এখন ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামের নির্জন প্রান্তের তালগাছগুলোর নিচে।
তালের রসে মজেছে সুরাপ্রেমীরা
নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে বোতলজাত মদের জোগান বন্ধ হতেই গ্রাম বাংলায় তালের রসের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সাধারণত গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে এই রস পান করা হলেও, বর্তমানে একে মদের বিকল্প নেশা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই আউশগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে তালগাছের নিচে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘক্ষণ রোদে রাখা তালের রসে গেঁজলা তৈরি হয়ে নেশার উদ্রেক করে, যা এই মুহূর্তে সুরাপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
প্রশাসনের নজর এড়াতে নির্জনতাই ভরসা
ভোটের আগে পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি এড়াতে সুরাপ্রেমীরা এখন গ্রামের ভেতরের নির্জন এলাকা বা মেঠো পথ বেছে নিচ্ছেন। লোকচক্ষুর আড়ালে বসে মাটির ভাড়ে তালের রস পানের এই হিড়িক এখন গোটা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যদিও এটি একটি প্রাকৃতিক পানীয়, তবুও নির্বাচনী আবহে নেশার বিকল্প হিসেবে এর ব্যাপক ব্যবহার প্রশাসনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- ভোটের কারণে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় মদ বিক্রি নিষিদ্ধ।
- মদ না পেয়ে বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক তালের রসের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় সুরাপ্রেমীরা।
- প্রশাসনের তল্লাশি এড়াতে গ্রামের নির্জন তালতলায় ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ।
- গ্রীষ্মকালীন এই পানীয়টি গেঁজিয়ে নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।