আইন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৮ ফুট গভীর নরকে শ্রমিক! নাগপুর পুরসভার কাণ্ড দেখে তাজ্জব দেশ

আইন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৮ ফুট গভীর নরকে শ্রমিক! নাগপুর পুরসভার কাণ্ড দেখে তাজ্জব দেশ

নাগপুর মহানগর এলাকায় সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশ এবং কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করে এক সাফাই কর্মীকে কোনো প্রকার সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই আট ফুট গভীর ম্যানহোলে নামানোর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সকালে শিবাজিনগর বাস্কেটবল গ্রাউন্ড সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কোটি কোটি টাকার আধুনিক মেশিন থাকা সত্ত্বেও কেন এক শ্রমিককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বালতি হাতে পচা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই তোলপাড় শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক গাফিলতি

স্থানীয় কাউন্সিলর অভিজিৎ ঝা এই অমানবিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মেয়র নীতা থাকরেকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাস পরীক্ষার সরঞ্জাম বা অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই ওই কর্মীকে নর্দমার ভেতরে নামানো হয়েছিল, যা সরাসরি ‘ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং অ্যাক্ট ২০১৩’-এর লঙ্ঘন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুর প্রশাসন ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কনজারভেন্সি জমাদার ও সাফাই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন পুর কমিশনার।

পরিকাঠামোর অভাব নাকি দায়বদ্ধতার ঘাটতি

মেয়র নীতা থাকরে স্বীকার করেছেন যে, শহরের পুরোনো সিভার লাইনের গঠনগত সমস্যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্র ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে রোবোটিক ও স্পাইডার যন্ত্র আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সামাজিক কর্মীদের দাবি, পর্যাপ্ত মেশিনের অভাব এবং কর্মকর্তাদের নজরদারির অভাবেই শ্রমিকদের এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই অপরাধের জন্য আইনে দুই বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

এক ঝলকে

  • নাগপুরে সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ৮ ফুট গভীর ম্যানহোলে শ্রমিক নামিয়ে পরিষ্কারের অভিযোগ।
  • ২০১৩ সালের ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং আইনের তোয়াক্কা না করায় প্রশাসনিক তদন্ত শুরু।
  • দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ও জমাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান।
  • ভবিষ্যতে মানুষের বদলে রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস পুর কর্তৃপক্ষের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *