গঙ্গা সপ্তমী এবং গঙ্গার অমলিন জলধারা কি শুধুই বিশ্বাস নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বিজ্ঞান!

গঙ্গা সপ্তমী এবং গঙ্গার অমলিন জলধারা কি শুধুই বিশ্বাস নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বিজ্ঞান!

হিন্দুধর্মে গঙ্গা সপ্তমী একটি অত্যন্ত পবিত্র দিন। আগামীকাল ২৩শে এপ্রিল এই মাহেন্দ্রক্ষণ পালিত হবে। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতেই কলুষনাশিনী মা গঙ্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই দিনটি উপলক্ষে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়, কারণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গঙ্গা সপ্তমীতে স্নান ও পূজা করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

পবিত্রতার রহস্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

গঙ্গার জলের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো এর দীর্ঘমেয়াদী বিশুদ্ধতা। বছরের পর বছর সাধারণ পাত্রে ভরে রাখলেও এই জল নষ্ট হয় না, যা বিজ্ঞানীদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গঙ্গোত্রী থেকে প্রবাহিত এই জলে বিশেষ কিছু খনিজ উপাদান এবং ‘ব্যাকটেরিওফাস’ নামক ভাইরাস থাকে। এই ভাইরাসগুলো জলে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ফেলে, ফলে জল দীর্ঘকাল দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বচ্ছ থাকে। ধর্মীয়ভাবে এই গুণকে ঐশ্বরিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হলেও, এর মূলে রয়েছে প্রকৃতির এক অনন্য ভারসাম্য।

তিথির গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক প্রভাব

শাস্ত্র মতে, ভগবান বিষ্ণুর চরণ থেকে জন্ম নেওয়া গঙ্গা মহাদেবের জটায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। গঙ্গা সপ্তমীর দিনে গঙ্গাস্নান বা তর্পণ করলে পিতৃপুরুষের আত্মা তৃপ্ত হয় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে। বিশেষ করে এই দিনে দান-ধ্যান এবং দুগ্ধ অভিষেকের মতো কাজগুলো মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি বয়ে আনে বলে মনে করা হয়। এই তিথিতে গ্রহের দোষ খণ্ডন ও পিতৃ দোষ থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ পূজারও বিধান রয়েছে।

এক ঝলকে

  • ২৩শে এপ্রিল গঙ্গা সপ্তমীর পবিত্র তিথিতে মর্ত্যে মা গঙ্গার আবির্ভাব ঘটেছিল।
  • গঙ্গার জলে থাকা ব্যাকটেরিওফাস ভাইরাস ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে জলকে দীর্ঘকাল বিশুদ্ধ রাখে।
  • শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনে গঙ্গাস্নানে মুক্তি লাভ এবং পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
  • গঙ্গা সপ্তমীতে ছাতা, কলসি বা ছাতু দান করা এবং তর্পণ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *