ভাগ্নির ওপর যৌন নির্যাতন ও আজীবন কারাদণ্ড! নিজের মামার হাতেই কিশোরীর শ্লীলতাহানি

তামিলনাড়ুর চেঙ্গলপট্টু জেলায় এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে তার আপন মামাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। ২০২৪ সালের এপ্রিলে গরমের ছুটিতে বাবা-মায়ের কাছে বেড়াতে এসে নৃশংস এই ঘটনার শিকার হয় কিশোরী কাব্য (ছদ্মনাম)। দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযুক্ত ৪০ বছর বয়সী মুরুগানকে পকসো (POCSO) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে চেঙ্গলপট্টু আদালত এই কঠোর রায় ঘোষণা করে।
পারিবারিক বিশ্বাসের চরম অমর্যাদা
পেশায় নির্মাণ শ্রমিক দম্পতির মেয়ে কাব্য তার দাদার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। ছুটিতে সে যখন সেলাইয়ুরে নিজের বাড়িতে আসে, তখন সুযোগ বুঝে তার মামা মুরুগান তাকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এমনকি কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় তাকে। ভয়ে চুপ থাকা কিশোরী পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তনের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পুরো বিষয়টি জানাজানি হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কঠোর বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা
মামলা চলাকালীন অবস্থায় গত বছরের ৩০ জুলাই একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় নির্যাতিতা কিশোরী। বিচারক নাসিমা বানু সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে মুরুগানকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তার এই অপরাধকে সমাজের জন্য এক চরম অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন। নিজের বিবাহিত জীবন এবং সন্তান থাকা সত্ত্বেও ভাগ্নির ওপর এই পাশবিক অত্যাচার করায় তাকে কোনো প্রকার অনুকম্পা না দেখিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এই রায় শিশুদের নিরাপত্তায় আইনি ব্যবস্থার কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
এক ঝলকে
- তামিলনাড়ুর চেঙ্গলপট্টু জেলায় নিজের ভাগ্নিকে ধর্ষণের দায়ে মামা মুরুগানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান।
- ২০২৪ সালের এপ্রিলে ছুটিতে বাবা-মায়ের কাছে থাকাকালীন এই নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয় ১৫ বছরের কিশোরী।
- নির্যাতিতা কিশোরী একটি সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ডিএনএ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হয় অভিযুক্ত।
- পকসো আদালতের বিচারক নাসিমা বানু অপরাধীর জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা ঘোষণা করেন।