“বাংলায় বাবরি মসজিদ গড়তে দেব না!” নির্বাচনের ঠিক আগে মমতাকে খোলা চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের

“বাংলায় বাবরি মসজিদ গড়তে দেব না!” নির্বাচনের ঠিক আগে মমতাকে খোলা চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের পারদ তুঙ্গে তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার দমদম উত্তরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাময়িক বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। শাহ সাফ জানান, বিজেপি থাকতে বাংলায় কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ তৈরি হতে দেওয়া হবে না।

বিতর্কের মূলে তোষণের অভিযোগ

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের স্বার্থে তোষণের রাজনীতি করছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল নেত্রী এমন নেতাদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন যারা বাংলায় বিতর্কিত পরিকাঠামো তৈরির স্বপ্ন দেখছেন। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ভারতের মাটিতে বিভাজনমূলক কোনো পরিকল্পনা সফল হতে দেবে না কেন্দ্র।

নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে আক্রমণ

শুধুমাত্র ধর্মীয় ইস্যু নয়, শাহের নিশানায় ছিল সিন্ডিকেট রাজ এবং অনুপ্রবেশ সমস্যাও। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ৫ মে-র পর বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের কোনো জায়গা হবে না। পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডসহ সাম্প্রতিক নারী নিগ্রহের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তিনি। ক্ষমতায় এলে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করার প্রতিশ্রুতিও এদিন পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল কংগ্রেস শাহের এই বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ ও ‘বিভাজনমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। শাসক দলের মতে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি সাম্প্রদায়িক তাস খেলছে। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটের ঠিক আগে শাহের এই ঝাঁঝালো মন্তব্য ভোটারদের মেরুকরণে কতটা সহায়ক হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিশ্লেষণ।

এক ঝলকে

  • দমদমের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের।
  • বাংলায় বাবরি মসজিদ গড়তে না দেওয়ার অনড় অবস্থান ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
  • অনুপ্রবেশ ঠেকানো, সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি।
  • শাহের মন্তব্যকে উসকানিমূলক ও পরাজয়ের ভয় বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *