“সন্তান যখন আপনার, বিয়ে করাই শ্রেয়!” বিজেপি নেতার প্রতারক ছেলেকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

কর্ণাটকের পুত্তুর এলাকার এক বিজেপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে প্রতারণা ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। অভিযুক্ত কৃষ্ণ জে রাও নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলা বাতিলের আবেদন করলে আদালত তা খারিজের ইঙ্গিত দিয়ে ওই তরুণীকে বিয়ে করার পরামর্শ দেয়। বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্নর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষায় যেহেতু প্রমাণিত হয়েছে যে ওই সন্তানের পিতা অভিযুক্ত ব্যক্তি, তাই মা ও শিশুকে অসহায় অবস্থায় ফেলে না রেখে বিয়ে করাই হবে সর্বোত্তম সমাধান।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি জটিলতা
বিজেপি নেতা জগন্নিবাস রাওয়ের ছেলে কৃষ্ণ জে রাওয়ের সঙ্গে স্কুলজীবন থেকেই ভুক্তভোগী তরুণীর পরিচয় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শুরুতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সন্তান জন্মের পর কৃষ্ণ বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তি পিতৃত্ব অস্বীকার করেন। তবে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে তিনিই শিশুটির জন্মদাতা পিতা।
আদালতের অবস্থান ও নৈতিক দায়িত্ব
আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার মক্কেলকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে জানায়, একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ ও তার মায়ের সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করা জরুরি। অভিযুক্তকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি ওই তরুণীকে মাসে ১০,০০০ টাকা খোরপোশ দিতে পারবেন কি না। আদালত মনে করে, আর্থিক সহায়তার চেয়েও শিশুটির সামাজিক স্বীকৃতির জন্য বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- কর্ণাটকের পুত্তুরে বিজেপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ।
- ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত কৃষ্ণ জে রাওয়ের পিতৃত্ব প্রমাণিত হয়েছে।
- মা ও শিশুকে সামাজিক সুরক্ষা দিতে অভিযুক্তকে বিয়ের পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।
- আদালত ওই তরুণীকে মাসে ১০,০০০ টাকা খোরপোশ দেওয়ার বিষয়েও অভিযুক্তের মতামত জানতে চেয়েছে।