গরিব ঘরের মেয়ে পেল বড়লোক বর, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে পা রাখতেই এ কী বললেন শ্বশুরকে! শুনে হতবাক সকলে

হরিয়ানার জিন্দ জেলার নরওয়ানা বিধানসভা কেন্দ্রের ফুলিয়া গ্রামে এক অনন্য বিয়ের সাক্ষী থাকল দেশবাসী। সমাজের গভীর ক্ষত যৌতুক প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত তহসিলদার তাঁর ছেলের বিয়েতে মাত্র ১ টাকা যৌতুক গ্রহণ করেছেন। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বদলে আদর্শিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে এক দরিদ্র পরিবারের উচ্চশিক্ষিত মেয়েকে নিজেদের পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করে নিয়েছে এই পরিবারটি। এই খবরটি জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার জোয়ার বইছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতা
ছেলের বাবা শামশের সিং জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই সৎসঙ্গ এবং মহাপুরুষদের আদর্শে বিশ্বাসী। তাঁর মতে, বাবা-মায়েরা কষ্ট করে মেয়েদের শিক্ষিত ও যোগ্য করে তোলেন, কিন্তু বিয়ের সময় বিপুল যৌতুকের চাপে আর্থিক সংকটে পড়েন। এই প্রথা বন্ধের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের উচিত যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রতিজ্ঞা করা। তাঁর এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
কৃতজ্ঞ নববধূ ও আগামীর ভাবনা
এদিকে শ্বশুরবাড়িতে এসে আবেগাপ্লুত নববধূ গীতু জানিয়েছেন, এটি তাঁর পরম সৌভাগ্য। তাঁর দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বিপুল যৌতুক দেওয়া আসাম্ভব ছিল, কিন্তু গুণ দেখে তাঁকে সম্মানজনকভাবে ঘরে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে যোগ্যতাকে যৌতুকের মাপকাঠিতে বিচার করা অনুচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ যদি দেশের প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, তবে নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী নির্যাতনের হার অনেকাংশেই কমে আসবে।
এক ঝলকে
- হরিয়ানার জিন্দ জেলার ফুলিয়া গ্রামের প্রাক্তন তহসিলদার ১ টাকা যৌতুকে ছেলের বিয়ে দিয়েছেন।
- কোনো অলংকার বা নগদ অর্থ ছাড়াই এক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষিত মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি ও নারীর যোগ্যতাকে সম্মান জানানোই ছিল পরিবারের মূল লক্ষ্য।
- স্থানীয়রা এই আদর্শিক বিয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং একে সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।