বিজেপির গড় কি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে? প্রথম দফার ১৫২ আসনে মমতার ‘ক্লিন সুইপ’ মিশন!
/indian-express-bangla/media/media_files/2024/12/28/IvyxiUKwW35RDShyDI3F.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই রাজ্য রাজনীতির পারদ তুঙ্গে। আগামীকাল ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভৌগোলিক এলাকায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য হলো বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে ধরাশায়ী করা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং একসময়ের বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত জঙ্গলমহলে এবার ঘাসফুল শিবিরের পাল্লা যথেষ্ট ভারী বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের দাপট ও কৌশল
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি, ডোমকল এবং মালদার সুজাপুরের মতো আসনগুলোতে তৃণমূলের জনভিত্তি অত্যন্ত সুসংগঠিত। অন্যদিকে, জঙ্গলমহলের বিনপুর ও নয়াগ্রামের মতো এলাকাগুলোতে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বিজেপির হিন্দুত্ববাদী প্রচারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের দিনহাটা ও সিতাইয়ের মতো স্পর্শকাতর আসনগুলোতেও তৃণমূল এবার বিজেপিকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে মরিয়া। বীরভূমে সাংগঠনিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি থাকলেও সিউড়ি ও বোলপুরে ঘাসফুল ব্রিগেড তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
ভোটের সমীকরণ ও প্রভাব
তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সাফল্য এবং বিজেপির অভ্যন্তরে টিকিট বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ। এছাড়া প্রথম দফার আসনগুলোতে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক বড় নির্ণায়ক শক্তি, যা ঐতিহাসিকভাবেই শাসক দলের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি এই সমীকরণ কাজ করে, তবে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১০০-র বেশি আসন জিতে শুরুতেই বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারে তৃণমূল, যা পরবর্তী দফার ভোটগুলোতে বিজেপির ওপর মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এক ঝলকে
- আগামীকাল ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন।
- মুর্শিদাবাদ, মালদা ও জঙ্গলমহলে জয়ের ধারা বজায় রেখে বিজেপিকে ‘হোয়াইট ওয়াশ’ করার লক্ষ্য তৃণমূলের।
- উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও বীরভূমের আসনগুলোতে শাসক দলের সাংগঠনিক শক্তি বড় পরীক্ষা দেবে।
- জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।