মাঠে একে অপরকে জড়িয়ে পড়েছিলেন তরুণ-তরুণী, পুলিশ দেহ উল্টাতেই সামনে এল হাড়হিম করা সত্য!

উত্তরপ্রদেশের বেতয়া নদীর পাড়ে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় একটি মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে এক কিশোর যুগলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে একদল শিশু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকালীন সময়ে তরুণ ও তরুণী একে অপরকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় ছিলেন এবং তাদের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। মৃতদেহ দুটির পায়ে একটি বস্তা জড়ানো ছিল এবং কাছেই পড়ে ছিল সিগারেটের প্যাকেট ও জুতো।
প্রেমের টানাপোড়েন নাকি পরিকল্পিত আত্মহনন
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বিষয়টিকে বিষপানে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। মৃত বালকিষাণ পেশায় একজন হোটেল কর্মী ছিলেন এবং ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার্থী রিমিঝিমের সাথে তার পরিচয় ছিল বলে জানা গেছে। অদ্ভুত বিষয় হলো, বালকিষাণের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছিল এবং ঘটনার পরদিন তার ‘গোদ ভরাই’ বা বাগদানের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। পরিবারের দাবি, ওই তরুণ কোনো নেশাদ্রব্য সেবন করতেন না, তাই ঘটনাস্থলে পাওয়া সিগারেটের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পরিবারের দাবি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
মৃতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রবিবার বিকেল থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। বালকিষাণের বাবা জানান, যে তরুণীর সাথে তার ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তাকে বালকিষাণ পছন্দ করতেন এবং বিয়েতে তার সম্মতিও ছিল। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের মতে মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে বভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক স্বীকৃতির অভাব অথবা পরিস্থিতির চাপে পড়েই এই যুগল চরম পথ বেছে নিয়েছেন।
এক ঝলকে
- বেতয়া নদীর তীরে মাঠ থেকে উদ্ধার হয়েছে বালকিষাণ ও রিমিঝিম নামের দুই তরুণ-তরুণীর মরদেহ।
- মৃতদেহের মুখে ফেনা ও পায়ে বস্তা জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
- বালকিষাণের অন্য এক তরুণীর সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিল এবং ঘটনার পরের দিনই ছিল বাগদানের অনুষ্ঠান।
- পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের পর ভিসেরা রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে।