কোটি টাকার বেতন আর আইআইটির ডিগ্রি থাকলেও পাত্রী চাই ‘পবিত্র’! বিজ্ঞাপনে তুঙ্গে বিতর্ক

কোটি টাকার বেতন আর আইআইটির ডিগ্রি থাকলেও পাত্রী চাই ‘পবিত্র’! বিজ্ঞাপনে তুঙ্গে বিতর্ক

আইআইটি (IIT) থেকে উচ্চশিক্ষা এবং নামী বহুজাতিক সংস্থায় বার্ষিক কয়েক কোটি টাকার প্যাকেজ—তথাকথিত সফল একজন মানুষের পরিচয় হিসেবে এগুলোই যথেষ্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৩৭ বছর বয়সি এক ডিভোর্সি পাত্রের বৈবাহিক বিজ্ঞাপনে দেওয়া অদ্ভুত সব শর্ত এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আধুনিক শিক্ষা ও মোটা বেতনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীনপন্থী মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।

অযৌক্তিক শর্তের তালিকা
সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি একটি ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রোফাইল নথিভুক্ত করতে গিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর পাত্রী হতে হবে ৩০ বছরের কম বয়সি। পাশাপাশি তিনি শর্ত দিয়েছেন যে, পাত্রীর কোনো অতীত সম্পর্ক থাকা চলবে না এবং তাঁকে হতে হবে তথাকথিত ‘পবিত্র’ বা কুমারী। শুধু তাই নয়, পাত্র নিজে বিবাহবিচ্ছিন্ন হলেও পাত্রীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট উচ্চবর্ণের (ব্রাহ্মণ) হওয়ার বাধ্যবাধকতাও জুড়ে দিয়েছেন তিনি।

তীব্র সমালোচনা ও প্রভাব
এই খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের বড় অংশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকের মতে, এই ধরনের মানসিকতা চরম নারীবিদ্বেষী ও পিতৃতান্ত্রিক। শিক্ষাগত যোগ্যতা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি করছেন সমালোচকরা। এমনকি সংশ্লিষ্ট ঘটকালি সংস্থাও এই প্রোফাইলটি দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত সমাজে এখনো নারীর বয়স এবং কৌমার্যকে আভিজাত্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়, যা আধুনিক সামাজিক কাঠামোর জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।

এক ঝলকে

  • ৩৭ বছর বয়সি আইআইটি গ্র্যাজুয়েট ও কোটিপতি ডিভোর্সি পাত্রের বিজ্ঞাপনে বিতর্ক শুরু।
  • পাত্রী হতে হবে ৩০ বছরের কম বয়সি এবং কোনো অতীত সম্পর্ক থাকা চলবে না।
  • নির্দিষ্ট উচ্চবর্ণের এবং ‘কুমারী’ পাত্রী চাওয়ার শর্তকে নেটিজেনরা অত্যন্ত নিচু মানসিকতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত সাফল্য সত্ত্বেও এমন পিতৃতান্ত্রিক দাবি আধুনিক সমাজ সংস্কারের পথে বড় বাধা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *