ট্রাম্পের দাবি কি তবে মিথ্যা? পারস্য উপসাগরে ইরানের বিছানো মাইন সরাতে লাগবে ৬ মাস, আকাশছোঁয়া থাকবে তেলের দাম!

জ্বালানির দাম কমার স্বস্তি কি কেবলই অলীক কল্পনা? সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের কালো মেঘ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আবহে ইরানের বসানো সামুদ্রিক মাইন সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধ আজ থেমে গেলেও অন্তত আগামী আধাবছর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের অগ্নিমূল্য কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
হোরমুজ প্রণালীতে মাইনের জাল
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালী দিয়ে। পেন্টাগনের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরান এই জলপথে অন্তত ২০টি অত্যাধুনিক মাইন বিছিয়ে রেখেছে। জিপিএস প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত এই মাইনগুলো শনাক্ত করা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র নৌকার সাহায্যে গোপনে বসানো এই মাইনগুলো সরালেই কেবল সমুদ্রপথ নিরাপদ হবে, তবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর।
অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
তেল সরবরাহের এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে গ্যাসের গড় দাম গ্যালন প্রতি প্রায় ৪.০২ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান আমেরিকার সাহায্যে এই মাইনগুলো সরিয়ে ফেলছে। তবে পেন্টাগনের এই রিপোর্ট ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালী থেকে ইরানি মাইন সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
- মাইন শনাক্তকরণে জিপিএস ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উদ্ধারকাজকে জটিল করে তুলেছে।
- জ্বালানি সংকটের ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির দাম কমার সম্ভাবনা নিকট ভবিষ্যতে নেই।
- বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই রুটটি বন্ধ থাকায় চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো চরম ঝুঁকিতে।