বউ আনব কীভাবে! মালা পরে জেলাশাসকের কাছে নালিশ জানাতে গিয়েছিলেন বর, শেষমেশ উল্টে ফাঁসলেন নিজেই

হলুদ মাখা শরীরে বরের বেশে কালেক্টরের দরবারে নালিশ জানাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন খোদ অভিযোগকারীই। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিয়ের আসর থেকে সরাসরি জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছেছিলেন উমেশ গঙ্গোলিয়া নামে এক যুবক। তার দাবি ছিল, বাড়ির সামনের রাস্তা ও নালা দখল করে রেখেছে প্রতিবেশীরা, যার ফলে কনে নিয়ে ঘরে ফেরা আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে এল এক বিস্ফোরক তথ্য, যা শেষ পর্যন্ত বুলডোজার অভিযানে গিয়ে ঠেকেছে।
অভিযোগকারীর ঘরেই বেআইনি দখল
বরের অভিযোগ পেয়ে জেলাশাসক শিবম বর্মা তৎক্ষণাৎ এসডিএম প্রিয়াঙ্কা চৌরাসিয়াকে গ্রামে গিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রশাসনিক দল আম্বামোলিয়া গ্রামে পৌঁছে জমি পরিমাপ শুরু করলে দেখা যায়, যে নালা ও রাস্তা নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল, সেখানে খোদ অভিযোগকারী উমেশই ৩ ফুট চওড়া ও ৩০ ফুট দীর্ঘ এলাকা জুড়ে অবৈধ নির্মাণ করে রেখেছেন। অর্থাৎ, অন্যের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে গিয়ে নিজেরই বেআইনি কাজ ফাঁস করে ফেলেন ওই যুবক।
সাফ হলো গ্রামের নিকাশি পথ
তদন্তের আওতা বাড়ালে দেখা যায়, শুধু উমেশ নন, গ্রামের আরও ১২ জন ব্যক্তি ওই গুরুত্বপূর্ণ নালা ও নিকাশি পথটি দখল করে রেখেছিলেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে খেতের ও বৃষ্টির জল সরতে না পেরে গ্রামবাসী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সত্য সামনে আসতেই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয় এবং বুলডোজার দিয়ে অভিযোগকারী বরসহ মোট ১৩ জনের অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেয়।
তদন্ত ও উচ্ছেদ অভিযানের ফলে গ্রামের প্রধান জলনিকাশি পথটি দীর্ঘ সময় পর সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হয়েছে। বরের নালিশের কারণেই অবশেষে প্রশাসনের নজর গ্রামে পড়ে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়। নিজের ওপর দিয়ে গেলেও, এই প্রশাসনিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এক ঝলকে
- বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে গায়ে হলুদ ও মালা পরা অবস্থায় জেলাশাসকের কাছে নালিশ জানাতে যান উমেশ গঙ্গোলিয়া।
- তদন্তে দেখা যায়, অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও খোদ অভিযোগকারীই নালা দখল করে রেখেছেন।
- প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে অভিযোগকারী বরসহ মোট ১৩ জনের অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- এই অভিযানের ফলে গ্রামের নিকাশি ব্যবস্থা এবং অবরুদ্ধ রাস্তাটি পুনরায় সচল হয়েছে।