ভোটের আগে বাইক চলাচলে ‘নিষেধাজ্ঞা’! কমিশনের কড়া নিয়মে কি বিপাকে সাধারণ মানুষ? হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে বাংলা

ভোটের আগে বাইক চলাচলে ‘নিষেধাজ্ঞা’! কমিশনের কড়া নিয়মে কি বিপাকে সাধারণ মানুষ? হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে বাংলা

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক চলাচলের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং বিশেষ করে গিগ-ওয়ার্কার বা ডেলিভারি কর্মীদের জীবনযাত্রায় বড়সড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই আজ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা, যার জরুরি শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার।

কমিশনের কড়া নির্দেশিকা ও আইনি জটিলতা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের দু’দিন আগে থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দিনের বেলা বাইক চললেও পিলিয়ন বা পেছনে আরোহী বসানোয় জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যদিও স্কুল পড়ুয়া বা রোগীদের ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা বলা হয়েছে, তবে রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির সময় সাধারণ মানুষকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত বাইক বাহিনীর দাপট রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

জীবিকা ও যাতায়াতে বড় প্রভাব

আবেদনকারীদের প্রধান দাবি, এই নির্দেশিকার কারণে র‍্যাপিডো, উবার মোটো বা বিভিন্ন খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় থানা থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে জানানো হয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তার প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও যেন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবিকা খর্ব না হয়। এখন আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে এই নিয়মে কোনো শিথিলতা আসবে কি না।

এক ঝলকে

  • নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কমিশন।
  • দিনের বেলা বাইকের পেছনে আরোহী বসানো নিষিদ্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ডেলিভারি কর্মীরা।
  • বিধিনিষেধের কারণে জীবিকা সংকটের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
  • আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির পর আদালত নির্দেশিকায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না, সেদিকেই নজর সবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *