নন্দীগ্রামে ধুন্ধুমার! পুলিশের বিরুদ্ধে ‘গুণ্ডামি’র অভিযোগ শুভেন্দুর, পাল্টা বিজেপির এজেন্ট নিয়ে খোঁচা তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শুরুতেই রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটদানকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের বিরুদ্ধে ‘গুণ্ডামি’ ও এজেন্টদের অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে পক্ষপাতিত্বের পাল্টা নালিশ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সংঘাত
এদিন সকালে টোটোয় চড়ে ভোট দিতে যান শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই তিনি পিংলার ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর সাসপেনশন দাবি করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং দলের মণ্ডল সভাপতিসহ একাধিক এজেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
পাল্টা চাপে তৃণমূল
পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন, নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর পছন্দের পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ করে পক্ষপাতিত্ব করছে কমিশন। তৃণমূলের দাবি, ৫৫টি বুথে বিজেপি কোনো এজেন্ট দিতে না পেরে এখন পুলিশের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে।
ভোটের এই আবহে নন্দীগ্রামে আধাসেনার টহল বাড়লেও রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি। পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে দুই শিবিরের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ওসির বিরুদ্ধে ‘গুণ্ডামি’ এবং বিজেপি এজেন্টদের অপহরণের অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর।
- পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে কাজ করার পাল্টা অভিযোগ তুলে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল।
- নন্দীগ্রামের ৫৫টি বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারেনি বলে দাবি শাসকদলের।
- হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে ভোট ঘিরে সকাল থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।