৩৫ বছর ধরে নিজের গর্ভেই মৃত সন্তানকে বয়ে বেড়ালেন বৃদ্ধা! অলৌকিক এই সত্য জানলে চোখে জল আসবে

৩৫ বছর ধরে নিজের গর্ভেই মৃত সন্তানকে বয়ে বেড়ালেন বৃদ্ধা! অলৌকিক এই সত্য জানলে চোখে জল আসবে

আলজেরিয়ার ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা দীর্ঘ তিন দশক ধরে এক অবিশ্বাস্য শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বেঁচে ছিলেন, যা সম্প্রতি চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়েছে। পেটে অসহ্য ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার গর্ভে গত ৩৫ বছর ধরে একটি মৃত ভ্রুণ অবস্থান করছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সাত মাস বয়সের এই ভ্রুণটি বৃদ্ধার শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকলেও তিনি কখনও কোনো অস্বাভাবিকতা টের পাননি।

লিথোপেডিয়ান বা স্টোন বেবি

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ান’ বা ‘স্টোন বেবি’। যখন গর্ভাশয়ের বাইরে পেটের ভেতরে ভ্রুণ তৈরি হয় এবং কোনো কারণে সেটি ভেতরেই মারা যায়, তখন শরীর তাকে বাইরে বের করার পথ পায় না। সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে শরীর তখন মৃত ভ্রুণের চারপাশে ক্যালসিয়ামের আস্তরণ তৈরি করে তাকে পাথরে রূপান্তরিত করে ফেলে। এই বৃদ্ধার ক্ষেত্রেও সাত মাসের সেই ভ্রুণটি প্রায় ২ কেজি ওজনের একটি পাথরের পিণ্ডে পরিণত হয়েছিল।

কারণ ও শারীরিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রুণটি জরায়ুর বাইরে বিকশিত হওয়ায় রক্ত সঞ্চালনের অভাবে এক সময় মারা যায়। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে তীব্র উপসর্গ দেখা দিলেও এই বৃদ্ধার শরীর ভ্রুণটিকে একটি জড় বস্তুর মতো গ্রহণ করে নিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর সেই পাথুরে ভ্রুণটি যখন অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে, তখনই কেবল ব্যথার উদ্রেক হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই বিশাল আকৃতির ‘বেবি স্টোন’ অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • আলজেরিয়ায় ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার পেটে ৩৫ বছর পুরনো পাথুরে ভ্রুণ পাওয়া গেছে।
  • বিরল এই চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ান’ বা ‘স্টোন বেবি’।
  • ভ্রুণটির ওজন প্রায় ২ কেজি এবং এটি বৃদ্ধার পেটে সাত মাস বয়স পর্যন্ত বিকশিত হয়েছিল।
  • দীর্ঘ সময় কোনো সমস্যা না হলেও সাম্প্রতিক তীব্র ব্যথার কারণে বিষয়টি ধরা পড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *