আপনার অজান্তেই কি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক? আমেরিকার ‘ডার্টি গেম’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়!

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর নিজেদের হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে ‘সাইকোলজিক্যাল অপারেশন’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের পথে হাঁটছে আমেরিকা। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া মার্কিন নথিপত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এখন আর সরাসরি সামরিক শক্তির বদলে মানুষের চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইরানের অনমনীয় মনোভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার যে ভাবমূর্তি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটাতে এই গোপন ডিজিটাল কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি গোপন কেবলের বরাতে জানা গেছে, এই ‘ডার্টি গেম’ পরিচালনার জন্য আর প্রথাগত প্রচারণা চালানো হবে না। পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করা হবে। এসব ইনফ্লুয়েন্সাররা সাধারণ কনটেন্টের আড়ালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী প্রচারণা চালাবেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক বা ‘অর্গানিক’ মনে হবে। এছাড়া শক্তিশালী অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে এমন সব খবর বা ভিডিও সামনে আনা হবে, যা আমেরিকার পক্ষে এবং ইরান বা রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে।
গণতন্ত্রের ঝুঁকি ও আস্থার সংকট
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ছায়াযুদ্ধ বা ‘সাই-অপস’ সরাসরি গণতন্ত্রের ওপর বড় আঘাত। যখন সাধারণ মানুষের মতামত কোনো অদৃশ্য বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা আসাম্ভব হয়ে পড়ে। এটি দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কারণ, ভবিষ্যতে আমেরিকার কোনো ন্যায়সঙ্গত দাবিকেও মানুষ ‘পেইড প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে সন্দেহ করবে। এই ডিজিটাল যুদ্ধের ফলে আগামী দিনে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল ময়দান সীমান্ত থেকে সরে এসে মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে স্থানান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
এক ঝলকে
- ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক বিপর্যয়ের পর আমেরিকা নতুন করে ‘সাইকোলজিক্যাল অপারেশন’ শুরু করেছে।
- স্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সার ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহার করে মানুষের চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- ফাঁস হওয়া গোপন নথি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা সরাসরি তদারকি করছে।
- এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন ইমেজ সংকট দূর করা এবং প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে বিশ্ববাসীর কাছে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা।