রক্তাক্ত বাংলা: বীরভূমে এজেন্টের মাথা ফাটল, মুর্শিদাবাদে প্রার্থীর গাড়িতে ভাঙচুর—ভোটের শুরুতেই রণক্ষেত্র একাধিক জেলা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সকাল ৭টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বুথ দখল ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও দিনভর বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে বিঘ্নিত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
রক্তপাত ও রাজনৈতিক সংঘাত
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা এলাকায়। সেখানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বিজেপি পোলিং এজেন্টের মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নাওদায় এক প্রার্থীর কনভয়ে হামলার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিরাপত্তার দাবিতে সংশ্লিষ্ট নেতা মাঝরাস্তায় চেয়ার পেতে ধরনায় বসেন। কোচবিহারেও ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও ভোটাধিকার হরণ
হিংসার পাশাপাশি অব্যবস্থাপনার অভিযোগও উঠে এসেছে বেশ কিছু বুথে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোট দিয়ে ফেরার পথে এক বৃদ্ধার মৃত্যু এবং মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে ইভিএম বিকল হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ভোটগ্রহণ থমকে থাকে। শিলিগুড়িতে এক তরুণী ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তাঁর ভোট আগেই পড়ে গিয়েছে, যা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া হলদিয়া ও মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অতি-সক্রিয়তা ও ভোটারদের হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে শাসক দল।
এক ঝলকে
- বীরভূমের লাভপুরে রাজনৈতিক হামলায় বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটে গুরুতর জখম।
- মুর্শিদাবাদের নাওদায় প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর ও পথ আটকে বিক্ষোভ।
- শিলিগুড়িতে রিগিংয়ের অভিযোগ, ভোটার পৌঁছানোর আগেই পড়ে গেল ভোট।
- পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোট দিয়ে বেরোনোর পর অসুস্থ হয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু।