“জ্ঞানতৃষ্ণা ভালো, কিন্তু ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ থেকে নয়!” আইনজীবী ও শশী থারুরকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চরম কটাক্ষ

ধর্মীয় উপাসনালয়ে লিঙ্গবৈষম্য এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে কড়া পর্যবেক্ষণ দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের ৯ সদস্যের একটি বিশেষ সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রখ্যাত লেখক বা চিন্তাবিদদের মতামতের গুরুত্ব থাকলেও ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ থেকে পাওয়া কোনো তথ্য বা জ্ঞানকে আদালত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে থাকা অনির্ভরযোগ্য তথ্যের বিপরীতে বিচারবিভাগীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
শশী থারুরের নিবন্ধ ও আদালতের অবস্থান
দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের পক্ষে সওয়াল করার সময় প্রবীণ আইনজীবী নীরজ কিষাণ কউল কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের একটি নিবন্ধের প্রসঙ্গ টানেন। সেখানে ধর্মীয় বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ না করার বা ‘বিচারবিভাগীয় সংযম’ পালনের কথা বলা হয়েছিল। কউলের যুক্তি ছিল, জ্ঞান যে কোনো উৎস বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আসুক না কেন, তাকে স্বাগত জানানো উচিত। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন হাস্যকৌতুকের ছলে মন্তব্য করেন যে, সেই জ্ঞান যেন কোনোভাবেই ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ থেকে না আসে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তও স্পষ্ট করেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত মতামত শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগতই থাকে, তা আইনি ভিত্তি হতে পারে না।
ধর্মীয় প্রথা ও বিচারবিভাগীয় জটিলতা
২০১৮ সালের ঐতিহাসিক সবরিমালা মন্দিরের রায় পরবর্তী পুনর্বিবেচনা এবং অন্যান্য ধর্মের নারীদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্যই এই ৯ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠিত হয়েছে। বুধবারের শুনানিতে আদালত স্বীকার করেছে, কোনো ধর্মের কোন প্রথাটি ‘অপরিহার্য’ আর কোনটি নয়, তা নির্ধারণ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি তৈরি করা প্রায় আসাম্ভব। এই পর্যবেক্ষণের ফলে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে আদালতের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এক ঝলকে
- ধর্মীয় স্থানে নারীদের অধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ নিয়ে কটাক্ষ সুপ্রিম কোর্টের।
- প্রবীণ আইনজীবী শশী থারুরের লেখার উদাহরণ দিলে আদালত তা ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে গণ্য করে।
- প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের বেঞ্চ মামলার আইনি ও সাংবিধানিক দিক খতিয়ে দেখছে।
- কোনো ধর্মের ‘অপরিহার্য প্রথা’ নির্ধারণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।