বয়স ৫০ পেরোলেও মা হওয়া সম্ভব? ঐতিহাসিক মামলার শুনানিতে বড় স্বস্তি দিল বম্বে হাইকোর্ট!

পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে মা হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভারতের বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই নারী। ভারতের বর্তমান প্রজনন আইন অনুযায়ী, ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তায় সন্তান ধারণ বা ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। ৫৩ ও ৫৫ বছর বয়সী ওই দুই নারী এই বয়সসীমাকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী’ হিসেবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
আদালতের স্বস্তি ও আইনি পদক্ষেপ
শুনানি শেষে বম্বে হাইকোর্ট আবেদনকারী নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছেন। আদালত তাঁদের মেডিকেল ফিটনেস টেস্ট বা শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নারীরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, যেখানে তাঁদের ৯ মাস গর্ভধারণের জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আদালত এই জটিল আইনি বিষয়টিতে সহায়তার জন্য একজন বিশেষ বিশেষজ্ঞ বা ‘অ্যামিকাস কিউরি’ নিয়োগ করেছেন।
প্রজনন অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ভারতের ‘অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি’ (এআরটি) আইন, ২০২১ অনুযায়ী নারীদের জন্য সন্তান ধারণের সর্বোচ্চ বয়স ৫০ এবং পুরুষদের জন্য ৫৫ বছর নির্ধারিত। আবেদনকারীদের মতে, এই সুনির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত। যদি আদালত এই আইনের বয়সসীমা সংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করে দেন, তবে তা ভারতে প্রজনন অধিকারের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এর ফলে প্রজননের অধিকার কেবল বয়সের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ না থেকে শারীরিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব পাবে।
এক ঝলকে
- ভারতের এআরটি আইন অনুযায়ী ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়া নিষিদ্ধ।
- এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টে মামলা করেছেন ৫৩ ও ৫৫ বছর বয়সী দুই নারী।
- আদালত তাঁদের মেডিকেল টেস্ট করানোর অনুমতি দিয়েছেন এবং একজন বিশেষজ্ঞ আইনি উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন।
- রায়ে আইনের পরিবর্তন এলে অধিক বয়সে মা হওয়ার অধিকারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।