ইরানে ‘মোসাদ’ শিকারে মরিয়া তেহরান! ইজরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফের একজনের মৃত্যুদণ্ড

ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগসূত্র এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি সুলতান আলি শিরজাদি ফখর নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান সরকার। দেশটির বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিজান’-এর তথ্যমতে, ফখর দীর্ঘকাল ধরে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ‘মুজাহিদিন-এ-খালক’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।
নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ
ইরানের দাবি, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও বিরোধী গোষ্ঠীর সাথে সমন্বয় করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। ফখরের মৃত্যুদণ্ডের ঠিক একদিন আগেই মেহেদী ফরিদ নামে অন্য এক ব্যক্তিকে একই অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়। ফরিদ ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মোসাদকে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রশাসন।
মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
চলতি বছরের শুরু থেকে ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং আঞ্চলিক উত্তজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয় না। অনেক সময় রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। মূলত বিরোধী কণ্ঠ রোধ এবং গোয়েন্দা তৎপরতা দমনের নামে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে।
এক ঝলকে
রুদ্ধদ্বার বিচার প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও বিরোধী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগে সুলতান আলি শিরজাদি ফখরকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান।
একদিনের ব্যবধানে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সরকারি গোপন তথ্য পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনেছে দেশটির বিচার বিভাগ।