ভোটের বাংলায় রণক্ষেত্র কেশপুর-মালদহ! কোথাও বিজেপি বিধায়কের গাড়িতে হামলা, কোথাও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনভর চলল তীব্র উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা। বৃহস্পতিবার ভোট চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বোমাবাজি, পাথরবৃষ্টি এবং হাতাহাতির খবর পাওয়া গেছে। তবে সব ছাপিয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কেশপুরে, যেখানে ভোট দিয়ে ফেরার পথেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী এক নারী। যদিও তাঁর পরিবার এটিকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করছে, তবে ভোটের উত্তপ্ত আবহে এই মৃত্যু বাড়তি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতিনিধিদের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক কোন্দল
আসানসোলে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের গাড়িতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের পাথর ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভাঙা কাঁচের আঘাতে তাঁর সঙ্গীরা আহত হলেও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বিধায়ক নিজে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নওদায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। দলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, মন্ত্রী তাজমূল হোসেন নিজের দলের বিরুদ্ধেই কাজ করছেন, যা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
বুথে বুথে অশান্তি ও বাহিনীর সক্রিয়তা
মালদহ ও শিলিগুড়িতেও দফায় দফায় বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও ইভিএম বিকল হওয়া নিয়ে ক্ষোভ, আবার কোথাও ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বুথ চত্বর। দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের ওপর লাঠি-সোটা নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোচবিহারসহ বেশ কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। মূলত রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার চেষ্টাই এই ব্যাপক সহিংসতার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- কেশবপুরে ৫৫ বছর বয়সী এক নারী ভোটার ভোট দিয়ে ফেরার পথে প্রাণ হারালেন।
- আসানসোলে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
- মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গোষ্ঠী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয় নির্বাচনী এলাকা।
- অচলাবস্থা কাটাতে ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোচবিহারসহ একাধিক জায়গায় পুলিশের লাঠিচার্জ।