পিতার হাতেই শেষ প্রাণ! খাবার তৈরি নিয়ে বিবাদে মেয়েকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করল মদ্যপ বাবা

উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলার কোহানডোর এলাকায় এক পাষণ্ড বাবার হাতে নিজের মেয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত রামলালকে গত বৃহস্পতিবার তার বাড়ির কাছ থেকেই গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। মৃত তরুণীর নাম সোনম (৩০), যিনি মাত্র একদিন আগেই স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ অভিযুক্তের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুঠার ও লাঠি উদ্ধার করেছে।
তুচ্ছ বিবাদ ও নৃশংস পরিণতি
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার নিজের ফসল বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে মদ পান করে বাড়ি ফেরেন রামলাল। বাড়িতে এসে খাবার তৈরি না হওয়া নিয়ে মেয়ের সঙ্গে তার প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মেয়েকে প্রশ্ন করলে সোনম পাল্টা যুক্তি দেন যে, বাবা বাইরে নেশা করে থাকলে তিনি কার জন্য রান্না করবেন। এই সামান্য তর্কেই ক্ষিপ্ত হয়ে রামলাল প্রথমে লাঠি দিয়ে এবং পরে কুঠার দিয়ে কুপিয়ে সোনমকে হত্যা করেন।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও আইনি পদক্ষেপ
হত্যার পর অভিযুক্ত রামলাল রক্তের দাগ মুছে এবং জামাকাপড় লুকিয়ে রেখে প্রমাণ লোপাটের আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তবে বুধবার বাড়ির কাছ থেকেই সোনমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোনমের স্বামী অজয় কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। জেরায় রামলাল নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। পারিবারিক কলহ এবং চরম উগ্র মেজাজ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক নৃশংস দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে নেশাগ্রস্ত বাবার হাতে সোনম নামে ৩০ বছর বয়সী এক তরুণী খুন হয়েছেন।
- রাতের খাবার রান্না না করা নিয়ে বাবার সঙ্গে মেয়ের তর্কের জেরে এই নৃশংস হামলা ঘটে।
- ঘাতক বাবা রামলালকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুঠারসহ গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
- খুনের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি রক্ত পরিষ্কার করে ও তথ্য গোপন করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।