তৃণমূলে থেকে কংগ্রেসের হয়ে দালালি! বিদায়ী মন্ত্রী তাজমুলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নিজের দলেরই

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর। তবে এই অশান্তির মূলে বিরোধী দল নয়, বরং খোদ শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি তলে তলে কংগ্রেসের হাত শক্ত করছেন এবং নিজের দলের বিরুদ্ধেই অনুগামীদের লেলিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রীর নিজের গ্রাম বাংরুয়াতে ২০০ ও ২০১ নম্বর বুথে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র বুথ চত্বর
বৃহস্পতিবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা স্বপন আলির অভিযোগ, মন্ত্রী তাজমুল হোসেন খাতায়-কলমে তৃণমূলে থাকলেও আসলে কংগ্রেসকে মদত দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রীর ইশারাতেই তাঁর অনুগামীরা কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে হামলা চালায়। চ্যালাকাঠ দিয়ে মারধর এবং অফিস ভাঙচুরের ফলে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। এর ফলে ভোটগ্রহণের শুরুতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাল্টা অভিযোগ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর পুত্র ইমরান আলির দাবি, জেলা পরিষদ সদস্য মর্জিনা খাতুন ও স্বপন আলির অনুগামীরাই পুলিশ ডেকে এনে পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং নিজেরা অফিস ভেঙে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের মারধর করার অভিযোগ তুলেছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল যে জেলা রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
এক ঝলকে
- হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে সাহায্য করার অভিযোগ।
- মন্ত্রীর গ্রাম বাংরুয়াতে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর ও মারধর।
- গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে প্রথম দফার ভোটে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল মালদায়।
- পাল্টা জবাবে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই পুলিশ ডেকে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছে মন্ত্রী পরিবার।