ইভিএম বিভ্রাটে রণক্ষেত্র খয়রাশোল: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ইটবৃষ্টি, বন্দুক উঁচিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিল পুলিশ!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বীরভূমের খয়রাশোল। দুবরাজপুর বিধানসভার অন্তর্গত বুধপুর গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে তীব্র অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএমে যান্ত্রিক বিভ্রাটের কারণে নির্দিষ্ট প্রার্থীর বোতাম টিপলেও ভোট চলে যাচ্ছিল অন্য প্রার্থীর অ্যাকাউন্টে। প্রায় ২০০টি ভোট পড়ার পর এই কারচুপির বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।
ইভিএম বিভ্রাট থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছালে তাদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের দফায় দফায় তর্কাতর্কি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা খণ্ডযুদ্ধের আকার নেয়। উত্তেজিত জনতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু করে বলে অভিযোগ। এই হামলায় কয়েকজন জওয়ান ও এক গাড়িচালক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে, যা এলাকাকে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।
পুলিশের কঠোর অবস্থান ও জনতা ছত্রভঙ্গ
উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং বড় ধরনের বিপদ এড়াতে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালায়। মূলত বিকেল চারটের পর বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে অশান্তি বাড়তে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের যে আগাম আশঙ্কা ছিল, খয়রাশোলের এই ঘটনা যেন তারই প্রতিফলন ঘটাল। বর্তমানে এলাকায় চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এক ঝলকে
বিকেল চারটের পর অশান্তি বাড়ার যে পূর্বাভাস কমিশন দিয়েছিল, খয়রাশোলে তাই বাস্তব রূপ নিল।
ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে বীরভূমের খয়রাশোলে বুথ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ইটবৃষ্টি ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, আহত বেশ কয়েকজন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে অস্ত্র উঁচিয়ে লাঠিচার্জ ও অভিযান চালাতে হয়।