বোমা-বারুদ নয়, নৌ-অবরোধেই কাবু ইরান? ট্রাম্পের নতুন চালে দিশেহারা তেহরান!

বোমা-বারুদ নয়, নৌ-অবরোধেই কাবু ইরান? ট্রাম্পের নতুন চালে দিশেহারা তেহরান!

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে রাজি নন। ১২ এপ্রিল আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমানে স্থবিরতা বিরাজ করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তড়িঘড়ি করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর চেয়ে একটি ‘যুৎসই’ চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছেন। রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও তিনি দাবি করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন স্বার্থই তার অগ্রাধিকার।

হরমুজ প্রণালীতে নয়া কৌশল

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ট্রাম্পের কৌশলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জাহাজ আটক বা হামলার ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্প একে সরাসরি সামরিক সংঘাতের অজুহাত হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, সরাসরি বোমাবর্ষণ করে ইরানের তেলকূপগুলো ধ্বংস করা হলে তা পুনরায় চালু করা আসাম্ভব হয়ে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। এর পরিবর্তে নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়াকেই তিনি অনেক বেশি কার্যকর এবং ভীতিপ্রদ অস্ত্র বলে মনে করছেন।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রভাব

বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আস্থার চরম সংকট বিরাজ করছে। পাকিস্তান সফরের প্রস্তাবিত আলোচনাটি ইরানের অনাগ্রহের কারণে বাস্তবায়িত হতে পারেনি। যদিও ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ‘বিচক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন, তবুও রিপাবলিকান সিনেটররা অবরোধ আরও কঠোর করার সংকেত দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই দীর্ঘমেয়াদী স্নায়ুযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে রাখবে।

এক ঝলকে

  • ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার চেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
  • ইরানের সাথে আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং তাড়াহুড়ো করে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসন নারাজ।
  • হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে তেলের বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
  • কূটনৈতিক পর্যায়ে আস্থার অভাবে এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *