অসহ্য যন্ত্রণা থেকে আত্মহত্যার চিন্তা! কোন মারণ রোগের কারণে ২৯০০ কোটির সম্পত্তি ভাগ করছেন সালমান?

বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের ফিটনেস সবসময়ই ভক্তদের কাছে ঈর্ষণীয়। কিন্তু পর্দার এই সুঠাম দেহের আড়ালে দীর্ঘকাল ধরে লুকিয়ে ছিল এক ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি ‘ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া’ নামক একটি বিরল এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই অসুখ এতটাই কষ্টদায়ক যে একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুইসাইড ডিজিজ’ বা আত্মহত্যা রোগ বলা হয়।
অসুখের ভয়াবহতা ও চিকিৎসা
এই রোগে আক্রান্ত হলে মুখের স্নায়ুতে অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়, যা অনেকটা বৈদ্যুতিক শকের মতো মনে হয়। সালমান জানান, ব্যথার তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে এক সময় তার মনে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল। চিকিৎসকরা তাকে চিৎকার বা রাগ করতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ এতে মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকায় গিয়ে জটিল নার্ভ সার্জারি করানোর পর বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ আছেন।
সম্পত্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
অসুখ আর জীবনের অনিশ্চয়তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সালমান তার অর্জিত বিশাল প্রতিপত্তি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করেছেন। জানা গেছে, তার প্রায় ২৯০০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তিনি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সালমানের এই বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে চলেছেন তার দুই ভাই আরবাজ খান ও সোহেল খান এবং দুই বোন অর্পিতা ও অলভিরা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে খান পরিবারের অভ্যন্তরীণ বন্ধন যেমন আরও মজবুত হবে, তেমনি সালমানের ভবিষ্যতের আইনি ও আর্থিক জটিলতাও হ্রাস পাবে। নিজের অসুস্থতাকে জয় করে জীবনের শেষলগ্নে নয়, বরং সুস্থ থাকাকালীনই উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে চান এই মেগাস্টার।
এক ঝলকে
- সালমান খান ‘ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া’ নামক বিরল স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
- ব্যথার তীব্রতার কারণে এই অসুখটি বিশ্বজুড়ে ‘সুইসাইড ডিজিজ’ নামে পরিচিত।
- অভিনেতা তার প্রায় ২৯০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ভাই ও বোনদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- আমেরিকায় সফল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে সালমান অনেকটা সুস্থ এবং নিয়মিত শরীরচর্চায় ফিরেছেন।