ভোটার তালিকায় কাঁচি আর বুথে আত্মার প্রভাব, বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড় অনুব্রতর মন্তব্যে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অভাবনীয় জনজোয়ারের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মূলত ‘এসআইআর’ বা ভোটার তালিকা ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়াকেই চিহ্নিত করছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার এবং কোথাও কোথাও ৫০ হাজার পর্যন্ত নাম বাদ যাওয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা কমেছে। ফলে বুথে সমসংখ্যক মানুষ ভোট দিতে এলেও গাণিতিক সমীকরণে শতাংশের হার এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক ও জেদ
এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে ভোটারদের একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাও কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তালিকায় নাম থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা থেকেই মানুষ নিজেদের নাগরিক অস্তিত্ব প্রমাণে বুথমুখী হয়েছেন। অনেক ভোটার মনে করেছেন, এবার ভোট না দিলে চিরতরে নাম মুছে যেতে পারে। এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার উৎসাহই ভোট শতাংশকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুব্রতর ‘আত্মা’ তত্ত্ব ও রাজনৈতিক পাল্টা দাবি
এই গাণিতিক ব্যাখ্যা মানতে নারাজ বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার যে চেষ্টা হয়েছে, ব্যালট বক্সে তার ‘প্রতিশোধ’ নিয়েছে মানুষ। অনুব্রত মণ্ডলের মতে, এই প্রক্রিয়ায় মৃতদের আত্মারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এবার কোনো রাজনৈতিক ডাক ছাড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে মানুষ ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের’ মতো থাবা বসিয়ে ভোট দিয়েছেন।
এই রেকর্ড ভোটদানের ফলে নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের ওলটপালট হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে তালিকার গাণিতিক মারপ্যাঁচ, অন্যদিকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের নিজস্ব দাবি—সব মিলিয়ে প্রথম দফার এই উচ্চ হার ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনমতের কোন মেরুকরণ ঘটিয়েছে, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এক ঝলকে
- বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হার রেকর্ড ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে শতাংশের গাণিতিক হার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
- হয়রানির প্রতিবাদে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
- অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ভোটারদের মধ্যে বুথমুখী হওয়ার বাড়তি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।