পঞ্চাশ বছরের রেকর্ড ভেঙে বাংলায় শান্ত ভোট, তৃণমূলের পতন আসন্ন বলে হুঙ্কার মোদীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণের দিনেই কৃষ্ণনগর ও মথুরাপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিগত ৫০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বাংলায় এমন হিংসামুক্ত নির্বাচন তিনি আগে দেখেননি। ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী হওয়ার পরিবেশ তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের মন থেকে ভয়ের সংস্কৃতি দূর হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনই রাজ্যের শাসকদলের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
তৃণমূলের জঙ্গলরাজ ও খাতা না খোলার হুঁশিয়ারি
কৃষ্ণনগরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’ ও নেতা-মন্ত্রীদের অত্যাচারে রাজ্যের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আগে রাজনৈতিক হিংসার মাধ্যমে ভোটারদের দমিয়ে রাখার যে চেষ্টা হতো, এবার সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জবাব দিচ্ছে। মোদীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের অনেক জেলাতেই এবার তৃণমূল কোনো আসন পাবে না অর্থাৎ ‘খাতা খুলতে পারবে না’। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা নিজেদের নিরাপদ ভবিষ্যতের লক্ষ্যেই এবার পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের লড়াই
মথুরাপুরের সভায় কেন্দ্রের ১১ বছরের শাসনের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। শৌচালয় নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগ তোলেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বা মেগা ফুড পার্কের মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি রাজ্য সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয় ঘটবে এবং তৃণমূল শাসনের অবসান হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং নির্বাচন কমিশনকে শংসাপত্র প্রদান মূলত দোদুল্যমান ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কৌশল। ‘ভয় হারছে, ভরসা জিতছে’—এই স্লোগান তুলে তিনি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করেছেন। প্রথম দফার শান্ত ভোটকে হাতিয়ার করে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, প্রশাসনিক কড়াকড়িতে তৃণমূলের সাংগঠনিক পেশিশক্তি এবার অচল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি ইভিএমে পড়বে।
এক ঝলকে
- গত ৫০ বছরের মধ্যে বাংলায় এবারই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর।
- তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভের জেরে অনেক জেলায় শাসকদল একটিও আসন পাবে না বলে হুঁশিয়ারি।
- কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের সঙ্গে রাজ্যের বঞ্চনা ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির তুলনা টানলেন মোদী।
- ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় তৃণমূল শাসনের অবসানের ভবিষ্যৎবাণী করেছেন তিনি।