পদ্মশ্রী পেয়েও জুটল না সন্তানের কাঁধ! ৮০ কোটির সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধাশ্রমে নিঃস্ব মৃত্যু প্রবীণ সাহিত্যিকের

বারাণসীর প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও আধ্যাত্মিক সাধক শ্রীনাথ খন্ডেলওয়ালের জীবনাবসান হয়েছে এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধাশ্রমে। ২০২৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত এই ব্যক্তিত্বের প্রায় ৮০ কোটি টাকার সম্পত্তি থাকলেও জীবনের শেষ দিনগুলো অত্যন্ত অবহেলায় অতিবাহিত হয়েছে। তার মৃত্যুর পর নিজের সন্তানরা শেষ দেখা করতে বা মুখাগ্নি করতেও এগিয়ে আসেননি। আধুনিক সমাজের পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রইল এই ঘটনা।
সন্তানদের উদাসীনতা ও সম্পদের মোহ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনাথ খন্ডেলওয়ালের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং মেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। অভিযোগ উঠেছে, বাবার অগাধ সম্পত্তি কৌশলে নিজেদের দখলে নেওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দেন তারা। এরপর এক সমাজসেবীর সহায়তায় তার ঠাঁই হয়েছিল কাশী কুষ্ঠ বৃদ্ধাশ্রমে। দীর্ঘ সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার সন্তানরা একবারের জন্যও খোঁজ নিতে আসেননি।
সামাজিক উদ্যোগে শেষকৃত্য সম্পন্ন
বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে সন্তানদের খবর দেওয়া হয়, কিন্তু তারা নিজেদের কাজে ‘ব্যস্ততা’ দেখিয়ে আসতে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সমাজসেবী এবং সাধারণ মানুষের দেওয়া চাঁদার টাকায় যাবতীয় নিয়ম মেনে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। যে মানুষটি শতাধিক গ্রন্থ লিখে সমাজকে আলোকিত করেছিলেন, নিজের রক্তের সম্পর্কের মানুষের কাছে তিনি রয়ে গেলেন ব্রাত্য।
এক ঝলকে
- ৮০ কোটি টাকার মালিক ও পদ্মশ্রী জয়ী সাহিত্যিক শ্রীনাথ খন্ডেলওয়ালের বৃদ্ধাশ্রমে মৃত্যু।
- সন্তানরা সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে অসুস্থ বাবাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
- মৃত্যুর খবরেও ব্যস্ততার অজুহাতে শেষ দেখা করতে আসেননি ছেলে ও মেয়ে।
- জনসাধারণের দেওয়া চাঁদার অর্থে যথাযোগ্য মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।