ভারতের বড় শত্রুকে খতম করল ইরান! কুলভূষণ যাদব অপহরণের হোতা জঙ্গিগোষ্ঠী পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান থেকে ভারতের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর এসেছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ সংলগ্ন রাসক এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে ভারতের অন্যতম শত্রু হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘জইশ আল-আদল’-এর একটি পুরো অপারেশনাল টিমকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। এই সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় ইরানি বাহিনীর অতর্কিত হামলার মুখে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই দলের সবাই নিহত হয়।
কুলভূষণ যাদব অপহরণের নেপথ্যে থাকা চক্রের বিনাশ
ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সরাসরি মদতে কাজ করত। ২০১৬ সালে ইরানের চাবাহার থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবকে অপহরণ করে পাকিস্তানে পাচার করার পেছনে এই ‘জইশ আল-আদল’ চক্রটিই সক্রিয় ছিল। কুলভূষণ যাদব বর্তমানে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই সন্ত্রাসী দলটি ইরানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও সম্পর্কের সমীকরণ
ইরানের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ফলে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তারা কোনো আপস করবে না। এই অভিযানের ফলে জইশ আল-আদল বড় ধরনের সাংগঠনিক ধাক্কা খেয়েছে, যা পরোক্ষভাবে ভারতের নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এক ঝলকে
- ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাকিস্তানের জইশ আল-আদল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুরো দল নিকেশ হয়েছে।
- এই সন্ত্রাসী দলটি ২০১৬ সালে ভারতীয় নাগরিক কুলভূষণ যাদবকে ইরান থেকে অপহরণের সাথে জড়িত ছিল।
- সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান থেকে ইরানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
- অভিযানের ফলে পাকিস্তান ও ইরানের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।