“এভাবে চলতে দেওয়া যায় না!” মথা আশ্রিত দুষ্কৃতীদের শেষ হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, কড়া অ্যাকশনের পথে প্রশাসন

ত্রিপুরায় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লাগাতার হিংসার ঘটনায় শাসক জোটের দুই শরিক বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর মথা আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগ ওঠায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাজ্যে আইনের শাসন চলবে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্য়েই পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
** ঘর গোছাতে ব্যস্ত তিপ্রা মথা**
একদিকে যখন রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য, অন্যদিকে তখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারে মরিয়া তিপ্রা মথা। এডিসি নির্বাচনের আগে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতা, যেমন অনন্ত দেববর্মা, পুনরায় প্রদ্যুৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার হাত ধরে মথায় ফিরে এসেছেন। দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, বিক্ষুব্ধ নেতাদের এই ঘরওয়াপসি মথাকে নতুন করে চাঙ্গা করছে। তবে এই পুনর্গঠনের আবহেই পশ্চিম ত্রিপুরা ও সিপাহীজলাসহ বিভিন্ন জেলায় শাসকদলের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে আঞ্চলিক এই দলটির দিকেই।
প্রশাসনের তৎপরতা ও বিরোধীদের কটাক্ষ
হিংসা কবলিত এলাকাগুলোতে শান্তি ফেরাতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল সরজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল মান্দাই এলাকা পরিদর্শন করে বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল বলে দাবি করেছেন। যদিও এই পুরো পরিস্থিতিকে বিজেপি ও তিপ্রা মথার ‘নাটকীয় স্ক্রিপ্ট’ বলে অভিহিত করেছে রাজ্য কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহার দাবি, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই দুই শরিক দল মানুষের নজর ঘোরাতে এমন পরিকল্পিত সংঘাতের আবহ তৈরি করছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ২৫৮টি পরিবারের জন্য সাড়ে ৬৪ লক্ষ টাকার ত্রাণ ঘোষণা করেছে সরকার।
- মথা আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।”
- দলত্যাগী নেতাদের ফিরে আসায় উপজাতি রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে তিপ্রা মথা।
- সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা।